১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

ইউজিসি’র কাছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি

জাবি প্রতিনিধি

কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সতর্কতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে কমিশন বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ খোলা চিঠি দেয়।

এতে জানানো হয়, গত ৮ আগস্ট ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিব্রত। আরো বিব্রত এ কারণে যে, যাচাই বাছাই ছাড়াই কিছু অনলাইন পোর্টালে এ নিয়ে প্রকাশিত নিউজ দেখে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে তারা জানান, ভর্তি মৌসুম সামনে রেখে দেশের ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

‘ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা’ শিরোনামে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেউ অনুমোদনহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে অথবা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইউজিসির এমন বিজ্ঞপ্তিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ জানিয়ে বলেন, “এটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু এ তালিকায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখেই আমরা বিস্মিত।”

“ইউজিসি সাধারণত প্রোগ্রামের অনুমোদন দেয়। দুটি ভবনে আামাদের ক্লাসের কার্যক্রম চলে আর বাকি দুটিতে লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামসহ সাপোর্টিভ কার্যক্রম চলে। সবগুলো বিষয় ইউজিসি জানে। সুতরাং একাধিক অনুনোমোদিত ক্যাম্পাসের বিষয়টি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।"

তারপরেও কেন এই তালিকায় তাদের ৎ, তা জানতে চেয়ে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

খোলা চিঠিতে আরও জানানো হয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এক মাত্র ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রায় ৫০ টির মত বাস গাড়ী আছে শুধু মাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য। এখন এই গাড়ী রাখার জায়গাকেও হয়তো ইউজিসি অননুমোদিত ক্যাম্পাস বলে দিতে পারে। অথচ এটা সাপোর্টিভ কার্যক্রম।

২০১০ সাল থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্টুডেন্টদের মাঝে প্রায় ৩৫ হাজার ল্যাপটপ বিতরন করেছে। এখন এই ল্যাপটপ ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার এবং সার্ভিস সেন্টারও কিন্তু সাপোর্টিভ কার্যক্রম।

এমনকি লাইব্রেরি-এক্সজাম অফিস ও বিজিসেন ইনকিউবেটরকেও ইউজিসি অননুমোদিত ক্যাম্পাস বলে গেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় বক্ত্যব্যে উদ্যোক্তাদের কথা বলেন, স্টার্টপ এর কথা বলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা যেন এ সকল মন-মানষিকতায় গড়ে উঠেন তারই বিবেচনায় বিজিসেন ইনকিউবেটর, স্টার্টাপ মার্কেট, চিকিৎসা সেবা, এডমিশন ইনফরমেশন সেন্টার, ডিজিটাল ক্লাস রুম, বিশাল ট্রান্সপোর্ট পুল, বিরাট অডিটোরিয়াম, বিজিনেস ইনকিউবেশন সেন্টার, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, হিউম্যান রির্সোস ডেভেলাপমেন্ট ইনস্টিটিউট ,ব্যামাগার, আন্তর্জাতিক মানের গবেষাগার, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ছাড়াও অসংখ্যা সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়।

তারা জানায়, এখন এসব কাজের জন্য ব্যবহৃত একাধিক ভবনকে একাধিক ক্যাম্পাস ধরে অননুমোদনের তালিকায় ফেলাটা বিভ্রান্তিকর।

"এসব বিষয় ইউজিসিকে আগেই অবহিত করার পরেও কেন আমরা এই তালিকায় পড়েছি, তা জানতে চেয়ে ইউজিসিকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।"

তারা আরও বলেন, “আমরা আশা করবো ভর্তিচ্ছু এবং বর্তমান শিক্ষার্খী ও অভিভাবকরা ইউজিসির এমন বিজ্ঞপ্তির কারণে বিভ্রান্ত হবেন না।”

আর ইউজিসির কাছে আশা করবো তারা তাদের কার্যক্রমে দায়িত্বশীল আচরণ করবে। ইউজিসিকে আরো দায়িত্বশীল দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ইউজিসির এমন বিজ্ঞপ্তিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলছেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ইউজিসি সাধারণত প্রোগ্রামের অনুমোদন দেয়। দুটি ভবনে আামাদের ক্লাসের কার্যক্রম চলে আর বাকি দুটিতে লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামসহ সাপোর্টিভ কার্যক্রম চলে। সবগুলো বিষয় ইউজিসি জানে। কেন আমরা এই তালিকায় পড়েছি, তা জানতে চেয়ে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছি আমরা।