১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

পৃষ্ঠপোষকতার অভাব॥ কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এখন বিলুপ্ত প্রায়


 হাসানুজ্জামান হাসান,(কালীগঞ্জ)লালমনিরহাটঃ
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এবং মহিষামুড়ী গ্রামের প্রসিদ্ধ তাঁত শিল্প এখন বিলুপ্ত প্রায়।
 অথচ একসময় এর ঐতিহ্য হিসেবে ছিল এ’দুটি গ্রামের খ্যাতি গোটা অবিভক্ত বাংলাজুড়ে। নিভৃত পল্লীর নিস্তবতা ভেদ করে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁতের খটখট শব্দে নিপুন শিল্পীর হাতে  চলতো বুননের কাজ। বিভিন্ন স্থানে এখান থেকে সরবরাহ হতো নানা জাতের কাপড়। 
এখানকার তৈরি শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা এসব পণ্যের যথেষ্ট কদর থাকায় সেসব সরবরাহ হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে কিন্তু তা এখন সোনালী অতীত।
বর্তমানে এখানকার তাঁতীরা আর ভালো নেই। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও পুঁজির অভাব রং, সুতা ইত্যাদি উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যা আর সংকটের দরুণ ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি এখন হুমকির মুখে।
 নানমুখী সমস্যা সংকটের মুখে অনেকগুলো তাঁত ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার দিন কাটাচ্ছে মানবেতর।অনেকে জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে দিন মজুরীরর কাজ।
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও মহিষামুড়ি গ্রাম এদুটি গ্রাম তাঁত শিল্পের জন্য সু-পরিচিত এবং বিখ্যাত।
 ৩ শতাধিক তাঁতী পরিবারের বসবাস এ দুটি গ্রামে। পুঁজির অভাবে এ দুটি তাঁত পল্লীর তাঁত শিল্প বন্ধ হতে চলেছে।
 সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনভাবেই এখানকার তাঁতীরা পায়নি কোন অনুদান কিংবা ঋণ সহায়তা। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রং, সুতা ইত্যাদি উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ পেশায় টিকে থাকা অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তাঁতী পরিবারগুলো এখন দিন কাটাচ্ছে মানবেতরভাবে। 
গত কয়েক মাসে এই সংকট আরোও তীব্র হয়ে উঠেছে  বলে তাঁতী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 
জীবিকার তাগিদে এসব তাঁতি পরিবারের অনেকই বেছে নিয়েছেন দিনমজুর সহ অন্যান্য পেশা।
অনেকেই তাদের পূর্ব পুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরে নিরস্তর সংগ্রাম করে চলেছে।
 প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ দান ও উৎপাদিত পণ্যের বাজারতাজ করণের ব্যবস্থা করা গেলে কাকিনা ও মহিষামুড়ি তাঁত পল্লীর অতীত ঐতিহ্য আবারো ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং দরিদ্র তাঁতি পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে তোলা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।