১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

আদিতমারীতে পাইলিং ছাড়াই হচ্ছে ত্রানের ব্রীজ!


হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাটঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বর্লি পাইলিং ছাড়াই ত্রানের ব্রীজ নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রীতে কাজ শুরু করায় ব্রীজ নির্মান কাজ বন্ধ করেন ইউএনও।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গ্রামীন যোগাযোগ সচল রাখতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের উপর ৭টি ব্রীজ নির্মানের জন্য বরাদ্ধ দেয় ত্রান মন্ত্রনালয়। দরপত্রের মাধ্যমে এসব ব্রীজের নির্মানের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ প্রদান করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। যার প্রেক্ষিতে নির্মান কাজ শুরু করেন ঠিকাদাররা।
এর মধ্যে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া দোলার উপর ২৯ লাখ ১৭হাজার ৪শত টাকায় একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য কার্যাদেশ পান গোলাম রব্বানী সোহেল নামে একজন ঠিকাদার।কিন্তু সেই ব্রীজটি কমিশনে ক্রয় করে নির্মান কাজ শুরু করেন শামীম আলম নামে স্থানীয় একজন ঠিকাদার।
 ব্রীজের স্থায়িত্ব রক্ষার বর্লি পাইলিং না করেই এ ব্রীজের সিসি ঢালাই শেষ করেন ঠিকাদার। যার ফলশ্রুতি ব্রীজটি সামান্য পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। 
ব্রীজটি সিসি ঢালাই কাজে আকারে বড় ও মৃত পাথর ব্যবহার করার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময় পরিদর্শনে গিয়ে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর আলী।
এছাড়া বাকী ৬টি ব্রীজের সবেমাত্র নির্মান কাজ শুরু করলেও করা হচ্ছে না বর্লি পাইলিং। বর্লি পাইলিংয়ে ধরা ব্যায় প্রকৌশলীদের পকেটে যাবে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে ঠিকাদাররা জানান বর্লি পাইলিং না দিলে সেই খরচ ঠিকাদারকে দেয়া হবে না।
 যতটুকু কাজ ততটুকু বিল পাবেন ঠিকাদার। তবে অতিরিক্ত এ অর্থ কারা ভোগ করবেন? এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, ২৯ লাখ টাকার একটি ব্রীজে বর্লি পাইলিংয়ে ব্যায় ধরা আছে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কাজ যতটুকু হবে বিলও ততটুকু পাব।
 পাইলিং না করলে সেই অংশের বিল ঠিকাদারকে দেয়া হয় না। সে অর্থ কোথায় যাবে তা অফিস ভাল জানেন। কার্যাদেশে বর্লি পাইলিং ধরা থাকলেও বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা করা হচ্ছে না। পাইলিং ছাড়া ব্রীজের স্থায়িত্ব কতটুকু সেটা প্রকৌশলীরা ভাল বলতে পারবেন। প্রয়োজন না থাকলে কার্যাদেশে উল্লেখ করে সরকার অর্থ বরাদ্ধ দিলো কেন? প্রশ্ন তুলেন ওই ঠিকাদার।
আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার(পিআইও) মফিজুল হক বলেন, গন্ধমরুয়া দোলায় মাটির গুনাগুন ভাল থাকায় বর্লি পাইলিং দেয়া হয়নি। যার অর্থ ফেরত দেয়া হবে। তবে ওই ব্রীজ নির্মানের ব্যবহৃত নিম্নমানের পাথর অপসরন করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্রীজ নির্মান কাজের স্টিমেট ইউএনও’র নির্দেশ ছাড়া কাউকে দেখানো যাবে না। যেসব ব্রীজের বর্লি পাইলিং প্রয়োজন নেই সেখানে দেয়া হবে না এবং এর জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ ফেরত পাঠানো হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর আলী বলেন, পাথর সমস্যার কারনে একটি ব্রীজের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্লি পাইলিংয়ের বিষয়টি জানা নেই।তবে স্টিমেট অনুযায়ী নির্মান কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।যদি প্রকৌশলী মনে করেন বর্লি পাইলিংয়ের প্রয়োজন নেই। তবে সেই অর্থ ফেরত দিতে প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের কাছে চুক্তিনামা করে নেয়া হবে বলেও দাবি করেন তিনি।