২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

মুসলিম দেশগুলো স্বার্থপর

সামিউল্লাহ, কোতয়ালী (ঢাকা) প্রতিনিধি//অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়ার দিন কয়েক পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে মুসলিম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুসলিম দেশগুলোকে স্বার্থপর বলে আখ্যায়িত করেছেন।

কেবল পকিস্তান নয়, এ নিয়ে আরব আমিরাতের সমালোচনা করেছে মালয়েশিয়াও।

সোমবার এক বিবৃতিতে পাক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার সংক্রান্ত বিশেষ উপদেষ্টা ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর ইস্যুকে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মুসলিম দেশগুলো স্বার্থপরতা দেখিয়ে এই ইস্যুটি এড়িয়ে যাচ্ছে।

কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচারের বিষয়টিকে পুরো বিশ্ব গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দুবাই সফরকালে নরেন্দ্র মোদির হাতে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখায় শনিবার মোদিকে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। আমিরাতে সফরের আগেই এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছিল সে দেশের সরকার।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন পাক সিনেটের সভাপতি সাদিক সাঞ্জারানি।

আমিরাত সরকারের আমন্ত্রণে রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিনের সফর করার কথা ছিল সাদিক সাঞ্জারানিসহ পাক প্রতিনিধি দলের। সেখানে গিয়ে একাধিক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে সমর্থন করায় আমিরাতে এই সফর বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে।

কেবল পাকিস্তান নয়, মোদিকে সম্মাননা দেয়ায় আমিরাত সরকারের ওপর ক্ষেপেছে মালয়েশিয়াও। দেশটির কনসাল্টেটিভ কাউন্সিল ফর ইসলামিক অর্গানাইজেশন (এমএপিআইএ) এক বিবৃতিতে আমিরাতের সমালোচনা করে বলেছে, ‘ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোদি কাশ্মীরের মুসলিমদের ওপর ইহুদিবাদী স্টাইলে নির্যাতন চালাচ্ছে। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ গোটা মুসলিম বিশ্ব। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত কিনা মুসলিম উম্মাহর আবেগকে উপেক্ষা করে এই মোদিকেই সম্মানিত করেছে।’

ওই বিবৃতিতে কাশ্মীরে মুসলিম নিধনের নিন্দা করে আরো বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত আসলে ভারতে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যই মোদিকে পুরস্কৃত করছে, যাতে তিনি তার হিন্দু আধিপত্যবাদ চালিয়ে যেতে পারেন।’