১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

কিশোর অপরাধ ও বিশ্লেষণ

ফেসবুকে  মাঝে মাঝে দেখি স্কুলের নবম-দশম পড়ুয়া বাচ্চা ছেলে- মেয়েগুলো একে অপরকে সিনেমার কায়দায় গোলাপ দিয়ে ভিডিও করে, একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে প্রেমের প্রোপোজ করছে!!  চারপাশে বন্ধুরা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। আমি অবাক থেকে অবাক হই! এরা কেমন পরিবারের  সন্তান?  এদের আত্মীয় স্বজনরা কেউই কি কখনোই ফেসবুক চালায় না যে, ভাইরাল হওয়া এসব ছবি চোখে পড়ে না কারো.....? চোখে পড়লেই বা তাদের অভিভাবক তাদের শাসন করেন কেন...?


সামাজিক পরিস্থিতি.....অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েরা এখন ভয়ংকর ভাবে  প্রেম প্রেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলে পড়ুয়া এসব ছোট্ট শিশুরা প্রেমের কি বোঝে? কতটা বোঝে? এই প্রেম সর্বশেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে?  না। লাখে ২/১ টা শেষ পর্যন্ত টিকে কিনা সন্দেহ !  বর্তমানে বাচ্চা ছেলে- মেয়েগুলো যেটাকে প্রেম বলে ভুল করছে সেটা আসলে প্রেম নয়। সেটা সম্পূর্ণ ভাবে শারিরীক  চাহিদা নির্ভর একটা সম্পর্ক !  কিছু দিন- মাস- বছরের জন্য এই আসক্তি। প্রতিদিনের মূল্যবান সময়ের অপচয় ঘটিয়ে মান- অভিমান, ভালোলাগা, ভালোবাসা, ঘুরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে চ্যাটিং, রাতের ঘুম নষ্ট করে স্বাস্থ্য হারিয়ে, বাবার কষ্টের টাকা নষ্ট করে প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার অপচেষ্টা  ছাড়া আর কিছুই না।প্রতিটা বয়সের কাজ প্রতিটা বয়সের জন্য নির্দিষ্ট করা। চিন্তার গভীরতা আসতেও তো বয়স, সময় ও শিক্ষার প্রয়োজন। হয়ত অনেকে বলবে, এত ভেবে প্রেম হয় না। ঠিক আছে, মেনে নিলাম। তাহলে মেয়েটি স্কুলে  থাকতেই যখন প্রেগন্যান্ট হয়ে যাচ্ছে তখন তার দায়িত্ব কাঁধে নিতে এত ছলচাতুরি কেনো?  তখন কেনো ঐ অবৈধ  বাচ্চার স্থান হয় ডাস্টবিনে?  স্কুলের বাচ্চারা যখন তখন প্রেগন্যান্ট হয়ে যায় আর এই সব বাচ্চার বাবা কারা?  তারাও স্কুল, কলেজের ছাত্র! ভাবতেই ভয় হয় !  এত পাপাচারে সমাজ ডুবে গেছে কারণ ছোট থেকে স্বাভাবিক ধর্মীয় চর্চা, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, পাপপূণ্য ,সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ,  লজ্জাবোধ, মান সন্মানের ভয় - কিছুই শিখেনি এরা। যার জন্য তারা যা করে ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়েই করে। 


প্রেম- ভালোবাসা, আবেগ- অনুভূতি সৃষ্টির প্রথম থেকে ছিলো, আছে, থাকবে। কিন্তু পার্থক্য কেবল এর সৌন্দর্য  আর সুবাস নষ্ট হয়ে গেছে এই ইন্টারনেট আর অতি স্মার্ট জগতে এসে।সর্বশেষ বলবো, আজকাল বেশিরভাগ শিশুরাই এমন কেনো হয়ে যাচ্ছে?  একরোখা, বেয়াদব, ওভারস্মার্ট, অস্থির, আদব কায়দা বিবর্জিত, ধর্মীয় মূল্যবোধহীন, নীতিহীন - কথাগুলো শুনতে যেমন খারাপ লাগছে তেমনি লিখতেও আমার খারাপ লাগছে। কেননা এই শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম। বেশিরভাগ  পরিবারগুলো যদি কেবল "পড়াশোনায় ভালো হতে হবে,  A+ পেতেই হবে "...  এই মানসিকতায় বাচ্চা লালন-পালন করেন, তাহলে মানবিক গুনাবলীগুলো তাদের অগোচরেই থেকে যাবে। একদিন এই শিশুরাই বড় হবে, তখন হয়ত বিরাট বড় ব্যবসায়ী, চাকরীজীবি, শিক্ষিত, বিদ্বান, ঠিকই হবে কিন্তু মানবতা, মানুষ্যত্ব, বাবা- মায়ের প্রতি দায়িত্ব- কর্তব্য, ধর্মীয় ভয় এসব কতটুকু তাদের মনে গেঁথে থাকবে এটা কি একবারও ভেবেছেন?  


এত এত বৃদ্ধাশ্রমের শিক্ষিত মা- বাবাগুলো নিজেরাই কি দায়ী নয়, আজকে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে এই ব্যবহার পাওয়ার জন্য?  সন্তানকে অতীতে কখনো শাসন করেছিলেন?  কেউ যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলো তখন কি সেটার সঠিক বিচার করেছিলেন?  কোনো দিন কি সন্তানকে  কোরআান-হাদিসের আলোকে আল্লাহর শাস্তির বিষয়গুলো শুনিয়েছিলেন? সম্ভবত উত্তর হবে, "না"। এখন সন্তানকে গালি দিয়ে, ছিঃ ছিঃ করে কি হবে?  সন্তানকে যে শিক্ষায় মানুষ করেছিলেন, সন্তান তাই হয়েছে!  বৃদ্ধাশ্রমে থাকা শিক্ষিত, ধনী বাবা-মায়েদের আজ থেকে ৩০/৩৫/৪০ বছর আগের ঘটনা বিশ্লেষণ  করলে দেখবেন, বাচ্চাদের অতিরিক্ত আহ্লাদ, শাসনহীন ভাবে মানুষ করা, সব চাহিদা পূরণ, ধর্মীয় শিক্ষা না দেওয়া, আরো অনেক অনৈতিক ঘটনা, মানসিকতা জড়িত রয়েছে এর পেছনে। সুতরাং সময় থাকতেই সবারই উচিত বিষয়গুলোর উপর সচেতন হওয়া। আজ যা মজা এবং হাসির কারণ হিসেবে দেখছেন, ভবিষ্যতে যে এটাই কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না কেউ কি বলতে পারে?  তাই আসুন,  সবাই সবার সন্তানদের প্রতি একটু সচেতন হই, ওদের মঙ্গলের জন্য, নিজেদের মঙ্গলের জন্য। আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ হোক  ফুলের মত সুন্দর এ প্রত্যাশা রইল।

লিখেছেন- জি এম শরীফ মাছুম বিল্লাহ