৬, জুলাই, ২০২০, সোমবার | | ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

গত সপ্তাহের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবার পড়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৯

গত সপ্তাহের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবার পড়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

আনিস সেখ,(রাজবাড়ী প্রতিনিধি)   রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত সপ্তাহের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবার পড়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পদ্মা নদীর শহর রক্ষা বেড়ি বাঁধের কোল ঘেঁষে নদীর পাড়ে ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে ৭ জন শিক্ষক থাকলেউ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর দুইজন শিক্ষককে অন্য স্কুলে নিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যালয়ে রয়েছে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী। ৩১ মার্চ রোববার বিকালের ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের চাল উড়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের ভবনটির দেয়ালের ক্ষতি হয়। ফলে বিদ্যালয়টির অফিস কার্যক্রম ও পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেউ বর্তমানে শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠের গাছের নিচে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে রোদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ব্রাঞ্চে ও কিছু শিক্ষার্থী মাটিতে পাটিতে বসে পড়ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ ভবনটি সংষ্কার কাজ চলছে বলে দেখা গেছে।
গাছের নিচে ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্রুত সময়ে মধ্যে স্কুলের চাল ঠিক করে শ্রেনী কক্ষে ক্লাস নেওয়া হোক। গাছের নিচে রোদ বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন আন্না বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে ছিলো। এবার গত রোববারের ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো পরিবেশ না থাকায় গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। এতে করে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয় কখন আবার বৃষ্টি আসে। এছাড়া রোদ ও গরম তো আছেই। তবে ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের মেরামত কাজ চলছে। দ্রুত সময়ে মধ্যে আবার শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন মনে করছেন।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়টির মেরামত কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার ব্যবস্থা করবেন। পড়াশুনার মান বজায় রাখতে খোলা আকাশের নিচে এখন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের সাবিক বিষয়ে সব সময় খোজ-খবর রাখছেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, ঝড়ে বিদ্যালয়ের চাল উড়ে যাওয়ার খবর শোনার পর সরেজমিনে গিয়েছেন। পরক্ষণে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন এবং চাল মেরামতের কাজ চলছে।