২৯, সেপ্টেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার | | ১১ সফর ১৪৪২

ববি উপাচার্যকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বললেন, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯

ববি উপাচার্যকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বললেন, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক

ইমরুল কায়েস (ববি প্রতিনিধি)// বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ( ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক কে বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য নির্বাচিত ডাকসুর জিএস  গোলাম রাব্বানী। ফেসবুক স্টাটাসের মাধ্যমে তিনি বলেছেন, “স্যার, এবার সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি নিন। ওদের আর ক্লাসের বাইরে, রাজপথে রাখবেন না প্লিজ।”
টানা  ১৯ দিন ধরে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলনের ফলে কার্যত অচল রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,ব্যাহত হয়ে পড়েছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ।এর আগেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদক। 
এর আগে পূর্বঘোষিত সিন্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার  ছুটির দিনেও সকাল ১১ টা  থেকে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায়  অবস্থান কর্মসূচি নিলে দুপুর ১২ টার দিকে শিক্ষকদের একাংশ চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা পোশন করেন। এসময় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের একান্ত দায়বদ্ধতা থেকে আজ এখানে এসেছি। তোমাদের (ছাত্রদের) এই আন্দোলন যৌক্তিক। মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ থাকবে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চলমান অচল অবস্থা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। শিক্ষার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দিতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিন।এর আগেও শিক্ষক সমিতি ছাত্রদের চলমান উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোশন করে ৮ দফা দাবী আদায়ে ধর্মঘট অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, ভিসির পদত্যাগ নয়তো পূর্ণ মেয়াদের ছুটির বিষয়ে লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে পিছু হটার কোনো কারণ নেই। আজ ১৮ দিন ধরে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি চলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
প্রসঙ্গগত ২৬ মার্চ দুপুরে এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বললে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে নির্দেশ উপেক্ষা করে হলে অবস্থান করেন। পরে উপাচার্য এস এম ইমামুল হক তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিভাগীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকের পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানান, উপাচার্যের পদের মেয়াদ দুই মাস আছে। এই সময় তিনি যাতে আর কর্মস্থলে না আসেন, সে জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠাবেন।এমতাবস্থায় ১০ ই এপ্রিল ব্যাক্তিগতকারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের ছুটির জন্য আবেদন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড.এস এম ইমামুল হক। তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ বা পূর্ণমেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত দেওয়ার দাবিতে এখনো অটল।