২, এপ্রিল, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১

দাওয়াতে এসে হয়রানি

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮

দাওয়াতে এসে হয়রানি

জুনাইদ আরেফিন: খিলগাঁও  কালার ক্যাফে নামক একটি রেস্টুরেন্টে থেকে খেতে এসে টাকা দিয়ে যায়নি এমন একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচনায় উঠে এসেছে।

সেখানে বেশ কয়েকজনের ছবি ও সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে তারা প্রকাশও করেছে। প্রাথমিকভাবে তারা দাবি করছে তাদের বন্ধু সকলেরা একটি গ্রুপ হয়ে টাকা না দিয়ে সেখান থেকে চলে গিয়েছে। এবং উপস্থাপন করা হয়েছে তারা গ্রুপ আকারে কাজটি করেছে। কিন্তু অপর পাশের খবর এখনো অজানা। আরিফ ইসলাম রাহাত ছিলো সেই গ্রুপের মধ্যেই একজন, তিনি সময়ের কন্ঠকে জানান
“সেদিন আমি দুপুরে অনিক এর সাথে যোগাযোগ  করি, ইউনিভার্সিটি  যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করতে। ফোন দিয়ে শুনি, আমাদের কলেজ লাইফ এর একটা মেয়ে ফ্রেন্ড জন্মদিনের ট্রিট এর জন্য অনিক কে দাওয়াত করছে.. তো আমিও মজা করে ওকে জিজ্ঞেস করি, “যে কিরে.. এতোদিন পর আসলি,  ট্রিট ও দিচ্ছিস, আমি বাদ? ” সে তখন আমাকে ফোন এ বলে তুই ও এসে পর, রেস্টুরেন্ট এর নাম বলে, খিলগাও কালার ক্যাফে.  ওরা আমার অনেক আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল,  আমি পরে গিয়ে তাদের সাথে যোগ করি, ওরা বলেছিল অনেকক্ষন যাবত তারা অপেক্ষা করেছে, এমন কি, আমি গিয়ে দেখি তাদের খাওয়া শেষ। আমার জন্য আলাদা করে আবার আরেকটি প্লেটার আনার জন্যে বলা হয়, এবং এই ফুটেজ গুলি কালার কেফে এর সি সি কেমেরায় আছে, যে আমি পরে যোগদান করেছিলাম, এমন কি তাদের সেখানে উপস্থিত একজন ওয়েটার ও একি সম্মতি দেন, যে আমি পরে গিয়েছিলাম। সাধারণ মতই, আমি এবং অনিক যেহেতু  ছিলাম। বিল এর বেপার টা আমাদের কন্সার্ন থাকার কথা না..
১০ তারিখ সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার দুটি ফ্রেন্ড,  (শাহান কামাল উদয় এবং প্রান্ত জোয়ারদার) আমাকে মেসেজ এ একটা স্কিনশট দেয়, সেখানে ফুডি তে শেয়ার করা কালার ক্যাফে এর ওউনার এর একটা পোস্ট দেখি, যেখানে লেখা ছিল,  “সুযোগ বুঝে বিল না দিয়ে চলে যায় এই ৩ ব্যক্তি, এমন ভদ্রবেশি প্রতারক দের কাছ থেকে দূরে থাকুন,” এমন কিছু একটা… এটা দেখে আমি সাথে সাথে কালার ক্যাফে এর পেজ এ দেয়া তাদের রেস্তোরাঁর নাম্বার এ ফোন দেই, কিন্তু নাম্বার টা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো, ততক্ষণে  আমার ভার্সিটি এর সন্মানিও(অবজ্ঞার সাথে)কিছু কুমতলব সম্পন্ন মানুষ রা, ফুডি এর উক্ত পোস্ট টাকে বাজে ভাবে ভাইরাল করে ফেলেছে, এবং ফুডি এর স্ক্রিনশট নিয়ে অনেক জন কেই পাঠিয়ে দিয়েছে, কয়েকজন ফোন দিয়ে খুব হাস্যকর মজা নেয়া শুরু, কোন খারাপ পোস্ট দেখলে,  তা ভাইরাল করা,  আজকালকের মানুষের অভ্যাস বলা যায়, তো এসব দেখে সাথে সাথে আমি কালার ক্যাফে তে সরাসরি দেখা করি এবং অথরিটি তে থাকা মিথিলা আপুর সাথে কথা বলি, আপু সব কিছু শোনেন,  এবং আমি যে গোস্ট ছিলাম, তারও কিছু প্রমাণ পান।
তারপর তিনি আমাকে বলেন, “আপনার এই বেপার টা আমার খুব ভালো লেগেছে, আপনি বাকি দুইজন কে একটু আস্তে বলেন, আমরা পুরা পোস্ট টা রিমুভ করে একটা পজিটিভ রিভিউ দিয়ে দিব”.. কিন্তু বাকিরা আসতে পারে নাই পরে। আমি তাদের পুরা বিল টা নেয়ার জন্য রিকুয়েস্ট করি, কিন্তু মালিক পক্ষে থাকা মিথিলা আপু, রাজিব ভাই টাকা টা নিতে রাজি হন নি, তারা খুব হাম্বল ভাবে আমাকে সাধুবাদ যানায় এবং আমার সাথে ছবি তুলে, পজিটিভ রিভিউ দেয়ার কথা বলেন। প্রতারণার যে মেইন পোস্ট টা ফুডি তে ছিলো সেটাও ফুডি এর এডমিন ” আবির” ভাই, আমার সামনে রিমুভ করে দেন। আর গতকাল এর মালিক “সম্রাট নাসির” ভাই ও একটি পজিটিভ পোস্ট দেন…
এই ছিলো পুরো ঘটনা, কিন্তু কস্টের বেপার হলো, সব কিছু রিমুভ হয়ার পর ও কিছু মানুষ  খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে,  যেনে শুনে, নিউ পোস্ট দেখেও আগের সেই Foody এর পোস্ট টার স্ক্রিনশট শেয়ার করে বেরাচ্ছে এবং সত্যি টা সামনে আসতে দিচ্ছে না… তাদের জন্য ধিক্কার জানাই, যে সব যেনেও একটা ভুল পোস্ট,  যার লিংক ও রিমুভ করা হয়েছে, সেই পোস্ট এর স্ক্রিনশট নিয়ে আপনারা তা ছরাচ্ছেন, শুধু শুধু একটা মানুষের ইমেজ খারাপ করার আগে, একবার সেইম জিনিসটা নিজের ক্ষেত্রে ভাববেন, আমার আর কিছুই বলার নাই। “”
কালার ক্যাফের মালিক সম্রাট নাসের বলেছেন “উনি আমাদের কাছে এসেছে তাতে আমরা অনেক খুশি এবং তার সরলতা সত্যি অসাধারন,  তবে বাকিদের উপর আমরা খুব তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করবো”