২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

ফেনী সোনাগাজীর নুসরাতের পর আগুন সন্ত্রাসী শিকার রাউজান সোনাগাজীর শাহিনুর

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯

ফেনী সোনাগাজীর নুসরাতের পর আগুন সন্ত্রাসী শিকার রাউজান সোনাগাজীর শাহিনুর

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যাকান্ডের পর এবার আগুন সন্ত্রাসের শিকার হন রাউজানের সোনাগাজীর শাহিনুর। লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় তরুণী শাহিনুরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত রবিবার (২১ এপ্রিল) জেলার বিকেল ৪টার দিকে কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুবনগর এলাকার একটি সয়াবিন ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন শাহিনুর মারা যান। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হতভাগা এই শাহিনুর আক্তার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিসপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সোনাগাজী চৌধুরী বাড়ির জাফর উল্লাহর কন্যা। জাফর উল্লার প্রথম পক্ষে স্ত্রীর দুই মেয়ে এক পুত্রের মধ্যে শাহিনুর সবার ছোট। জাফর উল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেও তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। বর্তমানে জাফর উল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার গ্রামের বাড়িতে বসবাসরত রয়েছেন। তার প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, শাহিনুরের বাবা জাফর উল্লাহ ২০ বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করার শাহিনুরের মা শাহিনুরসহ তার অপর ভাই বোনকে নিয়ে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াসিননগর গ্রামে চলে যান। পাঁচ বছর পূর্বে শাহিনুরের মা মারা গেলে সে তার বোন সহ চট্টগ্রাম নগরীর মোহাম্মদপুরে ফুফির ভাড়া ভাসায় চলে যান। শাহিনুরের সাথে তার বাবার নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তার সৎ মা ও সৎ ভাইদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। এই বিষয়ে শাহিনুরের সৎ মা মোছাম্মৎ নুর নাহার বেগম সময়ের কন্ঠকে বলেন, শাহিনুর মাঝে মধ্যে বাবার বাড়িতে আসত। তবে বিগত দুই বছর যাবত আসে নি। কবে তার বিয়ে হয়েছে তা তারা জানে না। শাহিনুরের স্বামীও কখনও এখানে আসে নি। তবে আজ (২২ এপ্রিল) একটার তার মৃত্যু সংবাদ শুনি। তিনি আরো জানান, পুলিশ এসে তার স্বামী জাফর উল্লাহকেও নিয়ে যান।এই বিষয়ে নোয়াজিসপু ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দি সিকদার সময়ের কন্ঠকে জানান, জাফর উল্লাহ একজন দিনমজুর ব্যক্তি। সে বাবুর্চির সহযোগী হিসাবে কাজ করে থাকেন। আমি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাজ শাহীনুর মৃত্যু সংবাদ শুনে খুবই মর্মহত হয়েছি। শাহিনুর আমার ইউনয়ের মেয়ে হলেও সে এখানে থাকত না। শহরে থাকত। সেখানে গার্মেন্টসে চাকরি করত। সেই সুবাদে হয়ত লক্ষপুরের ছেলে সাথে তার বিয় হয়। তবে, কবে কখন তার বিয়ে হয়েছে সেই বিষয়ে জানিনা। তবে যাই হোক না কেন আগুনে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করার ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। তার আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার চাই। এই বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ সময়ের কন্ঠকে জানান, কমল গঞ্জ থানার ওসি গত রবিবার রাতে আমার সাথে এই ঘটনা নিয়ে যোগাযোগ করেন। আমি মেয়টি পরিবারে সাথে কমলগঞ্জ থানার সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করি। আজ লাশ সনাক্ত করতে মেয়ের বাবাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় দুই আসামী আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি। জানা যায়, মোবাইলে শাহিনুরের সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের পরিচয়। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সালাহ উদ্দিন প্রথম স্ত্রী সন্তানের কথা গোপন রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিনুর স্ত্রী স্বীকৃতির দাবি নিয়ে লক্ষীপুরে গেল স্বামী সালাহ উদ্দিন আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যায়। অভিযুক্ত সালাহ উদ্দিন চর ফলকন গ্রামের মহর আলীর ছেলে। তার বাড়ি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আইযুবনগর এলাকায় ঘর জামাই থাকে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সে পেশায় একজন রিকশা চালক।