২১, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার | | ৯ রমজান ১৪৪২

নোয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে একরাম ও শাহজাহান নিশ্চিত

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮

নোয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে একরাম ও শাহজাহান নিশ্চিত

মান্নান তালিব: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের সাথে বিশ দল অংশ গ্রহনের ঘোষণা দেওয়ায় পরে পাল্টে গেছে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্নচর) আসনের নির্বাচনী চিত্র। এতদিন রাজনীতির মাঠে সহাবস্থান দেখাতে ব্যর্থ হলেও এখন কিছুটা নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সবার কাছে এই আসনটি গুরুত্বপূর্ন। মূলত এখান থেকে জেলাব্যাপী সব দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই আসন থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি শাহ জাহান প্রতিদ্ধন্ধিতা করবেন। ফলে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের দৃষ্টিও থাকে এই আসনের উপর।
স্থানীয়রা বলছেন, এ আসনটি উভয় দলের ইমেজ রক্ষার লড়াই। কারণ এখানে এমপি শাহজাহান টানা তিনবারের ও বর্তমান এমপি একরামুল করিম চৌধূরী দুইবারের এমপি।বিগত ১০ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ ও একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ অনেকটা সু-সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণে জয়ের ব্যাপারে আওয়ামীলীগ অনেকটা নিশ্চিন্ত। তবে শান্তিপূর্নভাবে ভোট হলে পাল্টে যেতে পারে ভোটের চিত্র। কারণ এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সময় ও সুযোগ ফেলে বিএনপিও ফসল তাদের ঘরে তুলতে বদ্ধ পরিকর।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানায়, নোয়াখালী-৪ আসনটি দুটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন, সুবর্নচর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনটি গঠন করা হয়। এটি ২৭১ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৮ এবং নারী ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯১ জন।
বর্তমান সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৮ সালে এ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।পরবর্তী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপি নির্বাচনে বর্জন করায় একরামুল করিম চৌধুরী বিনাপ্রতিদন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগ থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও দলীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয় ও সংগঠিত হওয়ায় জয়ের ব্যাপারে একরামুল করিম চৌধুরীও আশাবাদী।
অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ জাহান ১৯৯১ সালে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে পর পর আরো দুই বার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি বর্তমান এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বিএনপির নীতি নির্ধারনী মহলের একজন শাহ জাহান ক্ষমতায় থাকা কালে এই আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার ব্যক্তি ইমেজও ভালো। তাছাড়া নোয়াখালীর এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি শাহ জাহান।