২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

ঠাকুরগাঁওয়ের উপজেলাগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবদ পালিত

আপডেট: মে ২, ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ের উপজেলাগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবদ পালিত

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
মহান মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি এবং উৎসবের দিন হিসেবে উদযাপিত হয়। মে দিবসের পেছনে রয়েছে শ্রমিক-শ্রেণির আত্মদান ও বিরোচিত সংগ্রামের ইতিহাস। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। সেটি ছিল পুঁজিবাদী বিকাশের প্রাথমিক যুগ। তখন শ্রমিকদের কাজের কোনো শ্রমঘণ্টা নির্ধারিত ছিল না। ছিল না ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বতঃস্ফূর্ত ও অসংগঠিতভাবেই অনধিক ১০ ঘণ্টার শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ ও অন্যান্য দাবিতে কয়লা খনি শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন শুরু করে। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে পেনসেলভেনিয়ার কয়লা খনি শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১০ শ্রমিক নিহত হন। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে উল্লিখিত অনধিক ১০ ঘণ্টা শ্রমঘণ্টা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের কেন্দ্রস্থল হে মার্কেটের কাছে পৌঁছলে সৈনিকরা বাধা দেয় এবং সংঘর্ষ বেধে যায়। সৈনিকদের গুলিতে বহুসংখ্যক শ্রমিক নিহত ও আহত হন। শ্রমিকদের রক্তে ভেজা শার্ট নিয়ে মিছিল এগিয়ে চলে। আন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করে। শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত শার্ট লাল পতাকায় রূপান্তরিত হয়। ধর্মঘট ও প্রতিবাদ মিছিল চলে ৫ মে পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ৩ মে ৬ জন এবং ৫ মে আরও ৪ জন শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গ্রেফতার হন শত শত শ্রমিক। পরবর্তীকালে যাদের অনেককেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেন্ট লুইস শ্রমিক সম্মেলনে কাজের সময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের দাবিতে ‘মে দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নামে খ্যাত কমিউনিস্ট ও সমাজতন্ত্রীদের প্যারিস সম্মেলনে ১ মে তারিখটিকে দেশে দেশে শ্রমিক-শ্রেণির আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

আজ পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে নানান আয়োজনে পালন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ঠাকুরগাঁওয়ের উপজেলাগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে তাদের নিজস্ব ব্যানার নিয়ে “শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, উন্নয়নের শপথ করি” শ্লোগানে র‌্যালি বের করে। এবং উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে উপজেলা চত্তরে এসে আলোচনার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে বক্তব্য রাখেন, সহকারী ভুমি কমিশনার সোহাগ চন্দ্র সাহা, উপঃ আ’লীগের সাধাঃ সম্পাঃ ও উপঃ পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জিয়াউল হাসান মুকুল, সাবেক উপঃ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একে এম শামীম ফেরদৌস টগর, জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রধাণ শিক্ষক জামাল উদ্দীন, উপঃ আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নগেন কুমার পাল, উপঃ ভাইস চেয়ারম্যান আঃ কাইয়ুম পুষ্প, মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সামাদ, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা পারভীন, এবারের প্রতিপাদ্য “শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, উন্নয়নের শপথ করি” সামনে রেখে বক্তারা বলেন, আজ শ্রমিকরা সারা বিশ্যের ন্যায় বাংলাদেশেও নিজ শ্রমের স্বাধীনতা পেয়েছে, পেয়েছে শ্রমের ন্যার্য মুল্য, তিনি আরো বলেন আমাদের সকলের মধ্যে এখনো একটা ভুল ধারনা আছে আমরা ভাবি যারা ভ্যান চালাই, যারা ট্রাক চালাই, যারা কুলিগিরি করে, যারা মাঠে কাজ করে তারাই শ্রমিক, আসলে এমনটা না, শ্রমিক মানে আমাদের ভুল ধারনা ভাঙ্গতে হবে আমাদের সকলকে বুঝতে হবে যে আমরা সকলে শ্রমিক আমি নিজেও একজন শ্রমিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার যিনি আছেন তিনিও একজন শ্রমিক, শুধু তাই নয় আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন শ্রমিক তিনি তার অক্লান্ত প্ররিশ্রম দিয়ে শত বাধার মধ্যেও দেশকে আজ এগিয়ে নিয়ে চলেছেন । হাজার বাধার পরেও বুকে সৎ সাহস নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজ বুদ্ধিতে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নিয়েছেন । আপনারা দোয়া করবেন প্রধানমন্ত্রী’র জন্য তিনি যেনো দেশের মানুষকে আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে পারে ।