৯, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

ভোলায় ও সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ফণি মোকাবেলায় ৬৯৪ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত

আপডেট: মে ২, ২০১৯

ভোলায় ও সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ফণি মোকাবেলায় ৬৯৪ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত

ভোলা জেলা প্রতিনিধিঃভোলা ও সাতক্ষীরায় ঘূণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় ৬৯৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত। উপকূলীয়বর্তী জেলার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের দক্ষ ভলেন্টিয়ার প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুুতি নিয়েছে ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও জেলা প্রশাসন। বুধবার বিকালে পৃথক পৃথক সভা করে জেলা প্রশাসক ও ভোলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট। জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। খোলা হয়েছে ৭টি কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৮৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ভোলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের দক্ষ ৫ শতাধিক ভলেন্টিয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া মুহূর্তে শুকনো খাবার পরিবেশনের জন্য চিরা ও গুড় বিতরণের জন্য দোকান ঠিক করে রাখা হয়েছে বলে জানান ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি মো: আজিজুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ইউনিট অফিসার তরিকুল ইসলাম, যুব প্রধান আদিল হোসেন তপু, প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান সাদ্দাম হোসেন, কলেজ শাখার প্রধান সুমন প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক মো: মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত থাকায় মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। জেলার ৫৫৭টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার সরবরাহের জন্য সেচ্ছাসেবকদের তৈরি রাখা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান।

সাতক্ষীরা: ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ফণীসমূহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এজন্য সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সকলকে সর্তক থাকতে হবে। ইতোমধ্যে জেলায় ৪নং সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সভায় বলা হয়, জেলার ১৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, শুকনা খাবার মজুদ রাখা, ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়। ইতোমধ্যে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বর ০৪৭১৬৩২৮১।

জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় ৩২শ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১১৬ টন চাল, ১ লাখ ৯২হাজার টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃহ নির্মাণে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি মজুদ আছে। সভায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশংকা করে বলা হয় ৮, ৯ ও ১০ নম্বর সর্তক সংকেত আসলে উপকূলীয় মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে হবে। যতদূর সম্ভব দ্রুততার সাথে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে হবে। সংকেত প্রচারে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি আবু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ