১৬, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমৃদ্ধ করবে বাংলাদেশ

আপডেট: মে ১৯, ২০১৯

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমৃদ্ধ করবে বাংলাদেশ

আবদুর রহমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি।   নোয়াখালী, বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম জনপদ। তিন হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর মানচিত্রে এ জনপদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। আর তখন থেকেই এ অঞ্চলে মানব বসতি গড়ে উঠে। কালের পরিক্রমায় নোয়াখালী আজ স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী অঞ্চলে পরিনত। ব্রিটিশ বাংলা, পাক বাংলা আর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিটি শাসনামলে নোয়াখালীর অবদান সর্বাগ্রে ছিল। প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনে নোয়াখালীর সন্তানদের অংশগ্রহন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ৫২ এর ভাষা সংগ্রামে শহীদ সালাম, ৬৯ এর গণঅভ্যুথানে প্রথম শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক, ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের একজন এই নোয়াখালীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আব্দুল হাকিম, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কবর নাটকের মুনীর চৌধুরী, নাট্যকার সেলিম আলদীন, জহির রায়হান, শহিদুল্লাহ কায়সার, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, ২৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরী সহ হাজারো কৃতি সন্তানের জন্ম দিয়েছে এ নোয়াখালী। রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নোয়াখালীর সূর্যসন্তানেরা কোন অংশে পিছিয়ে নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম স্পীকার আব্দুল মালেক উকিল, স্পীকার মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক উকিল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের, দেশের প্রথম নারী স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক, বিজিএমই এর ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি ড. রুবানা হক, সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের জন্ম এই নোয়াখালী। অর্থনীতি আর বানিজ্যিক ক্ষেত্রে একক জেলা হিসেবে সর্বাধিক অংশগ্রহন নোয়াখালীর শিল্পপতিদের। দেশের অভ্যন্তরীন বিনিয়োগে নোয়াখালীর শিল্পপতিদের অবদান অন্যান্য জেলার চেয়ে এগিয়ে আছে। ব্যাংক, বীমা সহ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া মালিক, টিভি চ্যানেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই নোয়াখালীর হাতের ছোঁয়ায়। নোয়াখালী ১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী জেলার পূর্ব নাম ছিল ভুলুয়া, পরে ১৮৬৮ সালে নোয়াখালী হিসেবে নামকরণ করা হয়। নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৪২০২.৭০ বর্গ কিলোমিটার। নোয়াখালী জেলা ৯টি উপজেলা, ৯টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৯১টি ইউনিয়ন, ৮৮২টি মৌজা, ৯৬৭টি গ্রাম ও ৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। নোয়াখালী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৩,৭০,২৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬,১০,৪৪৪ জন এবং মহিলা ১৭,৫৯,৮০৭ জন। মোট জনসংখ্যার ৯৫.৪২% মুসলিম, ৪.৫২% হিন্দু এবং ০.০৬% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। অত,এব ভৌগোলিক অবস্থান, আকার, আয়তন ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে নোয়াখালী বিভাগ হওয়ার অন্যতম দাবিদার। বাংলাদেশ কে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে হলে দরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের দোর গোড়ায় সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বা মাধ্যম সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণেরর মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং তৃণমূলে জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটে। আর এই অঞ্চলের তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্যই নোয়াখালী বিভাগ হওয়া জরুরি।  নোয়াখালী বিভাগ হলে নোয়াখালী জেলা জেলাই থাকবে। কিন্তু ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী ও এর আশে পাশের জেলা নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ সৃষ্টি হবে। নোয়াখালী কে বিভাগ করা হলে অত্র উপকূলীয় অঞ্চল কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে, উন্নয়ন কর্মকান্ড দ্রুত হবে এবং এখানকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক মানের এয়ারপোর্ট নির্মিত হবে, সমুদ্র বন্দর নির্মিত হবে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হবে, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মিত হবে, নতুন নতুন শিল্প কল-কারখানা সৃষ্টি হবে, সেই সাথে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নোয়াখালী বিভাগ হলে শুধু নোয়াখালীবাসীরই যে লাভ বা নোয়াখালীর উন্নয়ন হবে তা নয়, তার প্রভাব পড়বে সারা দেশের ওপর। ঢাকা, চট্রগ্রাম এই দুই বিভাগ বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ রাজধানী ও বন্দর নগরী। যার ফলে পুরো বিভাগের মানুষ ওই ঢাকায় ও চট্রগ্রাম জেলায় ঘিঞ্চি করে উপছে পড়ছে। যদি নোয়াখালী বিভাগ হয়, তবে বিশেষ করে ঢাকায় ও চট্রগ্রামে জনগণের চাপ কমবে, যার ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বৃহওর নোয়াখালী বিভাগে, ঢাকা বিভাগে এবং বৃহত্তম বিভাগ ও বিকল্প রাজধানী চট্রগ্রামের গুরুত্ব বৃদ্ধির ওপর। অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমৃদ্ধ করবে বাংলাদেশ।