১৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

কুবিতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প; শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ

আপডেট: মে ২২, ২০১৯

কুবিতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প; শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ


সাফায়িত সিফাত, কুবি প্রতিনিধি:
 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বিশেষ সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এর আগে নানা ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এমন আলাদা বৃহৎ প্রকল্প এটাই প্রথম।
সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন -“আমি এতদিন যা বলেছি তা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সবাইকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে চাই। এভাবেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বহুদূর এগিয়ে যাবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের জানান – বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে, তার বাজেট প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা। অপরদিকে সড়ক উন্নয়নের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ২কোটি টাকা।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায় প্রধান ফটক থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্রই নতুন এই প্রকল্পের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট সাজসরঞ্জাম নিয়ে কর্মতৎপর সময় কাটাচ্ছেন।সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন জানান- এই প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা, ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন গাছের নিচে ও খোলা জায়গায় বসার জন্য পাকা স্থাপনা, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও শহীদ মিনার সংলগ্ন বাগানে পানি দেয়ার সুবিধার্থে পানির পাম্প স্থাপন,  প্রশাসনিক ভবনের সামনে নতুন বাগান, গোলচত্ত্বর, মুক্তমঞ্চসহ বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা রয়েছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীন রাস্তা প্রশস্তকরণ ও নতুন রাস্তা তৈরীর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এছাড়াও শীঘ্রই নান্দনিক মূল ফটক নির্মান কাজ শুরু হবে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা চান প্রকল্প যেন ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পন্ন করা হয়। 
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া হক রিভা বলেন “প্রকৃতির যেন খুব বেশি ক্ষতি না হয় সেই অনুযায়ী সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা উচিত। কারন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল আকর্ষণ হচ্ছে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।”
প্রায় একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘অভয়ারণ্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ এর সভাপতি রিজওয়ান কবির। তিনি বলেন- “রাস্তা সংস্কার ও পরিবর্ধনসহ এই প্রকল্পের কাজগুলো সত্যিই জরুরী। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন পুরনো গাছপালা কেটে ফেলা না হয়। এর বদলে প্রয়োজনে অন্যত্র সরানো যেতে পারে।”
এ প্রসঙ্গে সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন -“রাস্তা প্রশস্ত করতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে এক-দুইটি গাছ কাটতে হয়েছে। তবে যথাসম্ভব প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করার পর রাস্তার দু’পাশে কয়েকশত কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করা হবে; যা ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।”এছাড়াও পরিবেশ বিষয়ক এসব কর্মকান্ড অভয়ারণ্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সুপ্রভাতসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় ও পরামর্শক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।