১৬, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

বিদেশি বন্দরে নাবিকদের পালানোর প্রবণতা বাড়ছে, ‘ইমেজ’ সংকটে পড়ছে বাংলাদেশি নাবিকরা

আপডেট: মে ২৮, ২০১৯

বিদেশি বন্দরে নাবিকদের পালানোর প্রবণতা বাড়ছে, ‘ইমেজ’ সংকটে পড়ছে বাংলাদেশি নাবিকরা

এম হাসান রানা, বিশেষ প্রতিবেদক// হঠাৎ করে বিদেশি বন্দরে বাংলাদেশি নাবিকদের পালানো প্রবনতা বেড়ে গেছে।  বিদেশে একের পর এক বাংলাদেশি নাবিক পালানোর ঘটনায় এখন ‘ইমেজ’ সংকটে পড়েছে এদেশের নাবিকরা। গত একমাসের ব্যবধানে চারজন বাংলাদেশি নাবিক বিদেশের বন্দরে পালিয়ে গেছে। এসব ঘটনার জের ধরে চাইনিজ শিপ ওনার অ্যাসোসিয়েশন তাদের জাহাজে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকুরি না দেওয়ার জন্যসাময়িক  স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ শিপিং অধিপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চাইনিজ শিপ ওনারা অ্যাসোসিয়েশন।

জাহাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া নাবিকদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) দুটি জাহাজের নাবিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিপিং অধিপ্তরের শিপিং মাস্টারজাকির হোসেন।

এ বিষয়ে শিপিং মাস্টার জাকির হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বন্দরে অবস্থানকালে জাহাজ থেকে বাংলাদেশি নাবিক পলানোর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে  বিএসসির জাহাজের দুইনাবিকও রয়েছে। তাদেও খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়া নাবিকদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি চাইনিজ মালিকানাধীন ‘এমভি সিঙ্গাপুর স্প্রিট’ নামের জাহাজটিতে যোগদানের জন্য বাংলাদেশি ম্যানিং এজেন্ট সী কিং মেরিন সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়োগ পান ডেক ক্যাডেট মো.আনিসুল ইসলাম। জাহাজটি বর্তমানে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া বন্দরে আবস্থান করছে। সেই বন্দর থেকে বাংলাদেশি নাবিক আমিনুল ইসলাম জাহাজে উঠার কথা। ক্যাডেট মো. আনিসুল ইসলামওই জাহাজে উঠার জন্য গত ২৫ মে ডেক আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া বিমান বন্দওে পৌঁছে। সেখানে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে সে আর জাহাজে যোগদান না করে পালিয়ে যায়। বিমানবন্দরে ওইজাহাজের স্থানীয় এজেন্টের লোকজন তাকে আর খুজে পায়নি।

পরে চাইনিজ শিপ ওনার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ক্যাপ্টেন জাও ওয়েনবো বিষয়টি অবহিত করে বাংলাদেশ  শিপিং অধিপ্তরের মহা-পরিচালককে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, বিদেশি বন্দও থেকেবাংলামেধি নাবিক পালানোর ঘটনা আমরা বিস্মিত। এমন ঘটনা বন্ধ করা না গেলে আগামীতে বাংলাদেশি নাবিকদেও আর চাইনিজ জাহাজে চাকরি দেওয়া হবে না। আর এই অনাকাংখিত ঘটনারজন্য কী ধরণের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তার পরামর্শ চেয়েছেন  বাংলাদেশ শিপিং অধিদপ্তরের   মহাপরিচালকের কাছে।

তিনি চিঠিতে আরো উল্লেখ করেন, এই ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত  চাইনিজ জাহাজে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকুরি না দেওয়ার ব্যাপারে স্থগিতাদেশ জারি করেছে চাইনিজ শিপ ওনারঅ্যাসোসিয়েশন।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নব নির্মিত জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধি গত ৩০ এপ্রিল কলোম্বিয়ার বারানকুইলা বন্দরে অবস্থানকালে সেখান থেকে দুই বাংলাদেশি নাবিক মো.নুর নবী সিডিসি নং বিএসসি/টি/ ৮৬৬ এবং আবদুল আওয়াল সিডিসি নং বিএসসি/সিএলটি ০১৮ বন্দর কর্তৃপক্ষেও শোর পাস নিয়ে জাহাজ থেকে নামার পর আর জাহাজে ফিরে আসেননি।

একই দিন (৩০ এপ্রিল) স্পেনের বার্সোলোনা ডেকাল টার্মিনালে অবস্থান করছিল বাংলাদেশ শিপিং  করপোরেশনের অপর একটি জাহাজ ‘এমটি বাংলার অগ্রদূত’।সেদিন জাহাজটির নাবিক মো. সাজ্জাদ হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যান। অবশ্য পরে তিনি জাহাজে ফেরত আসেন।

বর্তমানে পালিয়ে থাকা বিএসসির দুই নাবিকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের পক্ষ থেকে মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টন জামাল হোসেন তালুকদার চিঠি (স্মারক নং১৮.১৬.০০০০.৩৮৩.৯৯.০১.১৯) দিয়ে শিপিং মাস্টার জাকির হোসেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।