২৮, নভেম্বর, ২০২০, শনিবার | | ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কলাপাড়ায় অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধু দোলাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট: জুন ১, ২০১৯

কলাপাড়ায় অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধু দোলাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া প্রতিনিধি//কলাপাড়া পৌরশহরের চিংগড়িয়া এলাকার অন্ত:স্বত্ত্বা দোলা কর্মকারের অস্বাভাবিক মুত্যু নিয়ে এবার মুখ খুললেন তার পরিবার। শনিবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে অন্ত:স্বত্ত্বা দোলা কর্মকারকে পেটে লাথি ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করলেন পরিবারের সদস্যরা। এসময় ভিকটিমের মা কল্পনা রানী, বাবা শ্যামল কর্মকার সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের কাকা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক অমল কৃষ্ণ কর্মকার জানান, অনুমান ২ বছর পূর্বে স¤্রাটের সাথে দোলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত স্বামী স¤্রাট ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবীতে দোলার উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এনিয়ে একাধিকবার শালিশ হলে স¤্রাট কিছুদিন দোলাকে নির্যাতন বন্ধ রাখে। শেষ পর্যন্ত দোলার দরিদ্র পরিবার যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় ২৪ মে শুক্রবার রাতে ৭ মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা দোলা কর্মকারকে পেটে লাথি মেরে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর তার লাশ ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে স¤্রাট ও তার মা সাধনা রানী।

ঐ সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ডের পর পুলিশের কাছে দোলার পরিবারের সদস্য অপু কর্মকার স¤্রাটের সাথে দোলার দাম্পত্য কলহ ছিল বলতেই স¤্রাটের পরিবারের পক্ষ নিয়ে সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর বিজলী রানী পুলিশের সামনেই তাকে গলা ছিড়ে ফেলার হুমকী প্রদান করেন বলে অভিযোগ করা হয় । এছাড়া দোলার মৃত্যু সনদ আনতে গিয়ে পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের অসৌজন্যমূলক আচরনের কবলে পড়েন দোলার পরিবার, সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন দোলার মা কল্পনা রানী। এমনকি কলাপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় বিজ্ঞ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৩০ মে মামলা দায়ের করেন কল্পনা রানী। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা কলাপাড়া থানার ওসিকে এজাহার গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন।

এদিকে স¤্রাট ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে শনিবার দুপুরে চিংগড়িয়া এলাকায় গিয়ে স¤্রাটের পরিবার ও প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনের রোষানলে পড়েন গনমাধ্যম কর্মীরা।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালের আদেশ হাতে পেয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।