৪, আগস্ট, ২০২০, মঙ্গলবার | | ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃতদেহ সনাক্ত

আপডেট: জুন ২৪, ২০১৯

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃতদেহ সনাক্ত

জাকির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ সপরিচয়প্রাপ্ত তিনজনই নারী এবং একজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুজন নারীর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।তারা হলেন- মনোয়ারা পারভীন (৪৮) ও ফাহমিদা আক্তার (২০)জানা যায়, মনোয়ারা পারভীন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া পৌরসভার টিটিডিসি এরিয়ার বাসিন্দা আব্দুল বারীর স্ত্রী। তিনি রোববার রাতে সিলেট থেকে মেয়ের বাসা থেকে উপবনযোগে কুলাউড়ায় নিজ বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় উনার মেয়ে ও বোনের মেয়ে সাথে ছিলেন। দুর্ঘটনায় ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে উনার মাথা, মুখ ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তবে তাঁর সাথে থাকা মেয়ে ও বোনের মেয়ে সামান্য আহত হন।সোমবার সকালে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মনোয়ারা পারভীনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত ফাহমিদা আক্তার সিলেটের মোগলাবাজার থানার আব্দুল্লাপুর এলাকার আব্দুল বারীর মেয়ে ও বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট থানার আতজুরি ভানদর খোলা গ্রামের মো. আকরাম মোল্লার মেয়ে সানজিদা আক্তার। তারা দুজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ নার্স।বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, জালালপুরের ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভার লাশ ইতিমধ্যে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে এসেছেন আর বাগেরহাটের সানজিদা আক্তারের লাশ গ্রহণ করতে নার্স নেতৃবৃন্দ কুলাউড়া হাসপাতালে রওয়ানা হয়েছেন।ফাহমিদার ভাই আব্দুল হামিদ জানান, রাতে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বোনের খোজে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে বোনকে না পেয়ে কুলাউড়া হাসপাতালে এসে মৃতদের মধ্যে বোনকে সনাক্ত করেন।ময়নাতদন্ত ছাড়াই ফাহমিদার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।তিনি বলেন, নার্সিং ট্রেনিংয়ের জন্য সিলেট থেকে উপবনযোগে একটি দলের সাথে ঢাকা যাচ্ছিলেন ফাহমিদা।আর নিহত কাওছার আহমেদের স্বজনরা হবিগঞ্জ থেকে তার লাশ নিতে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন বলে জানা গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬২ জন।

এদের মধ্যে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।প্রসঙ্গত, রোববার রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১১টা ৪৮ মিনিটের সময় কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশনের পাশে বড় ছড়া ব্রিজের ওপর মারাত্মক দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এতে সড়ক পথের পর রেলপথেও সিলেটের সাথে ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।