১৮, এপ্রিল, ২০২১, রোববার | | ৬ রমজান ১৪৪২

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যেন লোকাল বাস

আপডেট: জুন ২৪, ২০১৯

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যেন লোকাল বাস

এ,জে সুজন : বৃহত্তর কুষ্টিয়া এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা ববিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিনিয়ত এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়ে থাকে ১২শ থেকে ১৫শ রোগী। ভর্তি রোগী থাকে ৭শ থেকে ৮শ জন। কিন্তু চিকিৎসা-সেবার মান নিয়ে আগত রোগীদের অভিযোগের সীমানেই। যেখানে নানা অনিয়ম যেনো নিয়মে পরিণত হয়েছে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ৪৮ জন কর্মচারীর স্থলে রয়েছে মাত্র ১৭ জন। পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে মাত্র ৬ জন। ২৫০ বেডের ধারণক্ষমতার এই হাসপাতালটিতে ৭শ থেকে ৮শ রোগী ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেয়াটাই হয়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিনিয়ত রোগীর ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ তো রয়েছেই। অনেকেই এক প্রকার বাধ্য হয়েই হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছে! আবার কেউ কেউ দালালদের খপ্পরে পড়েও হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতিপূর্বে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে দালাল কমলেও কিছুদিন যেতে না যেতে আবার দালালদের আনাগোনা বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে কতিপয় চিকিৎসকরা এখন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনকের দালাল, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়ার্ডে রাউন্ড দিয়ে থাকেন। এছাড়া ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের জন্য সপ্তাহে দুদিন ডাক্তার ভিজিট এর জন্য নির্ধারণ করা হলেও প্রতিনিয়ত জরুরী বিভাগ,আউটডোর ও ইনডোরে সারাক্ষনই আনাগোনা থাকে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের।

জানা যায়, বৃহত্তর কুষ্টিয়াসহ আশপাশের এলাকার জনসাধারণের সুচিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৬৫ প্রতিষ্ঠিত হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। সে সময় মাত্র ৫০ বেডের শয্যা নিয়ে হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে হাসপাতালটি ১০০ বেডে উন্নীত করা হয়। ২০০৫ সালে এ হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রয়োজনীয় লোকবল নেই এ হাসপাতালে।

এদিকে গত কাল রাতে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে গেলে দেখা যায় হাসপাতালটি বারান্দা ও প্রতিটি ওয়ার্র্ডের মধ্যেই রোগী ও রোগীর স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই এই হাসপাতালটিকে লোকাল বাসের সাথে তুলনা করেছেন। পুরো হাসপাতালটি যেন রোগী। অনেক রোগী আবার অভিযোগ করে বলেন, দুইবার ডাক্তার রাউন্ডে আসার কথা কিন্তু ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত দুইবার রাউন্ডে আসছে না। কোন সেবিকাকে ডাকতে গেলে তারা রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

এসব বিষয় নিয়ে কুষ্টিযয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ মোসাঃ নূরুন-নাহার বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ভর্তি রোগী থাকে ৭শ থেকে ৮শ। আউটডোর থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ১২শ থেকে ১৫শ রোগী। ডাঃ আছেন ৪০ জন। আজ সকাল ৮ টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট রোগীর ৬৬৭ জন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ২৫০ শয্যার জন্য দরকার ৪৮ জন সেখানে ৭শ থেকে ৮শ ভর্তি রোগীর জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে মাত্র ১৭ জন। পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে মাত্র ৬ জন। এই অল্প সংখ্যক জনবল নিয়েই চলছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল।