১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ইবিতে শিক্ষা বাজেটের উপর উন্মুক্ত আলোচনাসভা

আপডেট: জুন ২৬, ২০১৯

ইবিতে শিক্ষা বাজেটের উপর উন্মুক্ত আলোচনাসভা

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের শিক্ষা বাজেটের উপর উন্মুক্ত  আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় টিএসসিসি’র করিডোরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে উম্মুক্ত এই সভার আয়োজন করে  ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ।
আলোচনা সভার বিষয় ছিল ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাবনায় শিক্ষা বাজেট: জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেক্ষিত’।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুমি নোমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মুঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়নের ইবি সংসদের সভাপতি নূরনবী সবুজ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনা করেন জি কে সাদিক।
প্রধান অতিথির আলোচনায় অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ বলেন, ‘বাজেট করতে হলে একটি দৃষ্টিভঙ্গির দরকার আছে। এবারের বাজেটটাও গতানুগতিক হয়েছে। বাজেটের ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্ষাতে কত টাকা দিয়েছে তা না দেখে কত প্রয়োজন ছিলো তা দেখার বিষয়। আমাদের দেশের কালোটাকার পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। পাচার হয়েছে পাঁচ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এদিকে নজর দেন। একজন সরকারের যতদিন পর্যন্ত বাজেট দর্শন ভাল হবে না ততদিন পর্যন্ত সেই সরকারের কাছে ভাল বাজেট আশা করা যায় না।’
সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সব থেকে বড় ব্যর্থতা শিক্ষা খাতে। আমরা চাই বা না চাই শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে। আমাদের দেশও পুঁজিবাদের দিকে আগাচ্ছে। অন্য পুঁজিবাদ দেশ গুলো তাদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট তৈরি করে। শিক্ষা ক্ষাতে ব্যয় করে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির পর ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী চিন্তা করে বিসিএস বা অন্য চাকরির পড়া নিয়ে। আর বাকি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা বা গবেষণা নিয়ে ভাবে। এটি প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর আগে শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ করা দরকার।’
সহকারী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল বলেন, ‘মোট বাজেটের দুই শতাংশ শিক্ষা খাতে থাকছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষাতে বাজেট সব থেকে কম। যতটুকু বাজেট পাচ্ছি তার মধ্যে বেশির ভাগ বেতন ভাতা, শিক্ষা উপকরণ এসব ক্ষাতে ব্যয় হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা গবেষণায় কত টুকু পাচ্ছে দেখার বিষয়। বাজেট বাড়াতে বললে সরকার বলে- আমরা গরিব দেশ। দুর্নীতি, টাকা পাচার, টাকা লুকানো এসব বন্ধ করেলে তো বাজেট বাড়ানো যায়।’