২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একের অধিকার অন্যের দায়িত্ব

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৮

একের অধিকার অন্যের দায়িত্ব
এ,কে,আজাদ, (খানসামা,দিনাজপুর,প্রতিনিধি): দায়িত্ব আর অধিকার এই দুটো শব্দ প্রতিনিয়ত আমরা বলে থাকি বা  মুখে সবসময় লেগেই থাকে।আসলেই কি শব্দ দুটো এত সহজে আমরা বলে বা বুঝে উঠতে পারি।  কোন শব্দ উচ্চারণ করা  সহজ তবে তার পিছনের তাৎপর্য বুঝা এত সহজলভ্য বিষয় নয়।
জীবনে মানুষ জন্মলগ্ন থেকে অধিকার ও দায়িত্ব থেকে পিছু ছুটাতে পারে না।  তবে অধিকারে অধিকারী হওয়া সহজ, দায়িত্ব পালন টিক উল্টো একটি বিষয়।আমি জন্মের পর অধিকার পাই মানবাধিকার, পিতা-মাতা আমাকে তাদের পরিচয় দিবে এই অধিকার,  পিতা-মাতা না থাকলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অধিকার ইত্যাদি।  বিস্তারিত পরে আলোচনা হবে।
সংবিধান, আইন ও আদেশ, আইনের শাসন, আইনের বিধি,প্রবিধান  এগুলা সবগুলা মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে সক্রিয়।  সংবিধান আমাদের মৌলিক অধিকার দিয়েছে যার পরিপূর্ণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আবার যদি অধিকার খর্ব হয় তাইলে প্রতিকারও দেওয়া আছে।  আইনের দরজা টোকা দিতে পারবেন।  তাইলে জনগণের অধিকার এর বিপরীত হচ্ছে রাষ্ট্রে দায়িত্ব।
তবে যে সব অধিকার রাষ্ট্রের বিপরীতে নয়,  সমাজ ব্যবস্থাই আমরা তা দেখতে পাই। এছাড়া যেগুলাকে আমরা “সিভিল রাইটস” বলি, যেগুলা দেওয়ানি আইন দ্বারা বলবৎ করা হয়, তাও মানুষের অধিকার।
যেমন আমার জমি আমি ব্যবহার করার অধিকার, অন্য কেউ তার এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না,  আবার যারা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না তাদের দায়িত্ব তারা তার অধিকার খর্ব করে এমন কাজ করতে পারবে না।
সময়ের বিবর্তনে আমরা আইনের পরিবর্তন দেখতে পাই। এক সময় আইন ছিল না, প্রথা ছিল, যা দীর্ঘদিন পরে আইনে রুপান্তরিত হয়েছে।
আমরা ফৌজদারি মামলা দেখতে পাই যেখানে, সকল অপরাধ রাষ্ট্রের বিপরীতে যদিও অপরাধ সংঘটিত করে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনিস্ট সাধনে।  এটা ঐ ব্যক্তির রাষ্ট্র কর্তৃক সুনিশ্চিত করা অধিকার যে তার ক্ষতি কেউ করবে না। তাইলে সে ব্যক্তি বিপরীতে সবার দায়িত্ব কেউ তার ক্ষতি করবে না।
পিতা,মাতা,নারী,শিশু সবাইকে নিয়ে আইন এখন দৃঢ় অবস্থানে আছেন। সবার অধিকার ও দায়িত্ব আইন সুষ্ঠু ভাবে বন্টন করছে যা সংবিধান এর সাথে সামঞ্জস্য। আমরা সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ২৮ অনুসারে জানি নারী ও শিশু এর লাভজনক পদক্ষেপ বা আইন তৈরী করা যাবে। সংবিধান আমাদের প্রধান আইম,যা একটি পবিত্র দলিল, কোন আইন তার উর্ধ্বে নয়।
 আবার জনগণের কিছু দায়িত্ব আছে যা রাষ্ট্র পাবার অধিকার রাখে।
ব্যক্তিগত জীবন ও অধিকার ও দায়িত্বে পরিপূর্ণ।
স্বামী বউ কে, ছেলে পিতা মাতা কে ভরণপোষণ দিবে এটা স্বামীর দায়িত্ব, তদ্রুপ বউ,পিতা মাতার অধিকার পাওয়ার।
আমরা জানি আমাদের সরকার এর ৩ টা বিভাগ,  সংসদ যেটা আইন প্রণয়ন করে জনগণের  অধিকার, স্বার্থ বিবেচনা করে, আবার নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ তা ব্যাখ্যা করে আর কোন ত্রুটি ঘটলে বিচার করে।  দেখুন অধিকার বাস্তবায়ন আর প্রস্তুত  দায়িত্ব পালনে। তাই বলা হয় “একের অধিকার অন্যের দায়িত্ব”
কিন্তু জনগণ তার অধিকার খর্ব হলে যেতে পারে আদালতে,  কিন্তু যে মামলার জট, তা তে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
অপেক্ষার গ্লানিতে হেরে যেতে হয়।  দীর্ঘদিন বা দীর্ঘসূত্র পারি দিতে হাহাকার আর হাহাকার।  সঠিক সমাধানের আলো টা জ্বলবার আগেই নিভেই যাই।
সমাধানের প্রথম ধাপ সবাই জানে সমস্যা, আর এখন সমস্যার আগেই মানুষ হতাশ।  কারণ দরজাই টোকানো হবে দীর্ঘদিন, কিন্তু দরজা খুলে সত্যটা আসবে না।