৩, আগস্ট, ২০২০, সোমবার | | ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

পঞ্চগড়ে পুকুর খননে প্রায় কোটি টাকা হরিলুট

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৯

পঞ্চগড়ে পুকুর খননে প্রায় কোটি টাকা হরিলুট

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড় জেলার মৎস্য কার্যালয়ের পুকুর পুনঃ খনন প্রকল্পের প্রায় এক কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে। নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই দায়সারাভাবে এই প্রকল্পের কাজ করছে বলে পুকুর মালিকদের অভিযোগ।অনুসন্ধানে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে পানি সঙ্কট দূরীকরণ ও সাবেক ছিটমহলকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা মৎস্য অফিসের ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে জেলায় পানি সংরক্ষণের জন্য ২৭ টি পুকুর পুনঃ খননের দায়িত্ব পান মেসার্স সোনালী এন্টার প্রাইজ, কামরুল ইসলাম, জাকিয়া খাতুন ও তোফাজ্জল হোসেন নামের ৪ টি প্রতিষ্ঠান। যার খনন ব্যয় ৯৪ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা।
সম্প্রতি ৩ জুলাই (বুধবার) দেবীগঞ্জ উপজেলার খাগড়াবাড়ি সাবেক ছিটমহলের ফজলুল হক, মজু শেখ, রেজাউল ইসলাম, মুকুল ইসলাম বলেন, সরকারী পুকুর পুনঃ খননে এরকম পুকুর কাটা আমি কোন দিনও দেখিনি। একবার বৃষ্টি হলেই পাড় ভেঙ্গে পুকুরটি আগের মত ভরে যাবে। তাছাড়া এই কাজের নিয়ম কানুন কি আছে তা আমরা কেউ জানি না। আমাদের পুকুর গুলোর শুধু পাড় বেঁধে গেছে আর কিছুই করেননি।এতে আমাদের লাভের চেয়ে লোকশান বেশি হয়েছে। পুকুর পুনঃ খননে এক্সকেভেটার (হাতিকল) দিয়ে পর্যায় ক্রমে দেড়, দুই, আড়াই, তিন লক্ষ টাকার কাজ ৮/১০ ঘন্টা থেকে ২ দিনে থেমে থেমে শেষ করেছে।
এ ছাড়া পুকুরটি খনন করতে দেবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের সিরাজুলকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হয়েছে বলে জানান ফজলুল হক। উন্নয়নশীল সরকারের আমলে সরকারি অর্থ লুটপাট অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। আমরা কাজের স্টিমিট চেয়েছি কিন্তু সংশ্লিষ্টরা দেয়নি। পুকুরের চতুর্পাশ কেটে ছেটে পরিস্কার করে খনন কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারের লোকজন। তাই পুকুর খননে বরাদ্দকৃত টাকা পুরো খরচ হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। বর্ষা মৌসুম হলেও কোনো সুফল ভোগ করতে পারছে না পুকুর মালিকরা। প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে। 
সোনালী এন্টার প্রাইজ এর প্রোপাইটর, এস এম মাহফুজুল হক বলেন, আমি পুকুর খনন ১০০ ভাগ করেছি তারপরও কাজের কমিশন কাটা হয়েছে এখনো বিল উত্তোলন করিনি।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ আফতাব হোসেন কোন মন্তব্য ক্যামেরায় দিবেন না বলে জানান।