২৮, নভেম্বর, ২০২০, শনিবার | | ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

জাককানইবি’তে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ২ জন গুণী ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৯

জাককানইবি’তে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ২ জন গুণী ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ দিন আজ ৪-৭-২০১৯ তারিখ বৃহস্পতিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি)-এর গাহি সাম্যের গান মঞ্চে সম্মাননা প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এম.পি। তবে বিশেষ কাজের কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক এম.পি’কে। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছিলেন বলেই আজ বিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। বঙ্গন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কবি নজরুলের মতো এতো বিশেষণ আর কোন কবির আছে বলে আমার জানা নেই।’

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন ‘১৯৭২ সালে কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশে করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে আমরা প্রস্তাব দেই। সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধিকে ফোন করে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন এবং কবির জন্মবার্ষিকী পালন করি। ধানমন্ডির যে বাসায় কবিকে রাখা হয়েছিল সেখানে প্রতিদিন জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পতাকা নামানো হতো। অর্থাৎ কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কবিকে দুইটি দেশে একই সাথে এমন সম্মাননা আর কাউকে দেওয়া হয় নি। দুই দেশেই কবির নামে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের কাজ হবে কবির গান, সাহিত্য ও জীবনী সংগ্রহ ও অবিকৃতভাবে চর্চা করা। তবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক একটি নজরুল বিষয়ক কোর্স রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সকল হিংসা-বিদ্বেষকে বিসর্জন দিয়ে কবির মতো মানুষের প্রেমে পড়তে হবে আমাদের। নজরুল সাহিত্য এবং নজরুল সঙ্গীতে অবদান রাখায় যে দুইজন গুণজনকে আমরা সম্মাননা দিতে পারলাম তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষক বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম এবং ৫ বার নির্বাচিত এম.পি জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক শত ব্যস্ততার মধ্যেও কষ্ট করে এই অনুষ্ঠানে আসায় তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।’ এছাড়া অন্যান্য অতিথিবৃন্দসহ উপস্থিত সকলকে তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের পক্ষ হতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

নজরুল গবেষণায় অবদানের জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রফেসর ড. হায়াৎ মামুদ’কে এবং সংগীত চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার স্বীকৃত স্বরূপ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা প্রদান করা হয় জনাব জুলহাসউদ্দীন আহমেদ’কে। দুই গুণী ব্যক্তিত্বকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন, সম্মাননা স্মারক এবং ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করেন অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার, প্রধান অতিথি, সভাপতি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। সম্মাননা প্রাপ্ত গবেষক প্রফেসর ড. হায়াৎ মামুদ তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘পুরস্কার পেলেও আমার কোন অহংকার হয় না। আর যারা আমাকে সম্মানিত করেছেন তাঁরা আমাকে ভালোবেসেই করেছেন, আমিও আপনাদের সকলকেই ভালোবাসি।’ সম্মাননা প্রাপ্ত সংগীত শিল্পী জনাব জুলহাসউদ্দীন আহমেদ তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি ধন্য। আপনাদের এই সম্মাননা আমি মাথায় তুলে নিলাম।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, জাককানইবি’র মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও জাককানইবি’র সিন্ডিকেট সদস্য জনাব মাহমুদ হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে। জাককানইবি শাখা ছাত্র লীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবু শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৭ এর পুরস্কার প্রদান এবং চারুকলা বিভাগ আয়োজিত বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ৪টি সেশনে ৪টি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। ‘নজরুলের রাজনৈতিক চেতনা ও সমকালীনতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল সেন্টার ফর সোস্যাল এন্ড কালচারাল স্টাডিজ-এর পরিচালক ড. স্বাতী গুহ। আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রফেসর ড. মোস্তফা তারিকুল আহসান। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম। ‘কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অনুপম হীরা ম-ল। আলোচনা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মনজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। ‘নজরুলের গানে নবরাগ: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রভাষক জনাব মেহফুজ আল ফাহাদ। আলোচনা করেন জাককানইবি’র সংগীত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী। সভাপতিত্ব করেন ভারতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মঞ্জুলা বেরা। এছাড়া দজড়ড়ঃ, জবংরংঃধহপব ধহফ জবাড়ষঁঃরড়হ: অ পড়সঢ়ধৎধঃরাব ঝঃঁফু ড়হ ঃযব চড়বঃৎু ড়ভ কধুর ঘধুৎঁষ ওংষধস ধহফ অরসব ঈবংধরৎব’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন জাককানইবি’র ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শেখ মেহেদী হাসান। আলোচনা করেন জাককানইবি’র ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বিজয় ভূষণ দাস । সভাপতিত্ব করেন জাককানইবি’র মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৩ দিনব্যাপী বই মেলা আজ শেষ হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাটক অনুষ্ঠিত হয়।

বি. দ্র.: এর আগে ২৫-০৫-২০১৯ তারিখ শনিবার নজরুল জয়ন্তীর শুভ উদ্বোধন করা হয়। সেই সময় রমজান মাস হওয়ায় ৩ ও ৪ জুলাই সাড়ম্বরের সাথে নজরুল জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো।