১৫, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কালিহাতী সাবরেজিষ্টার অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৯

কালিহাতী সাবরেজিষ্টার অফিসের সহকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম অভিযোগ

কালিহাতী(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:কালিহাতী উপজেলার সাবরেজিষ্টার অফিসের সহকারী সুভাষ পালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেরেস্তা খরচের নামে ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত আছে। কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছে ঐ সাবরেজিষ্টার ও অফিস সহকারী। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হলেও ঘুষ দুর্নীতিতে আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

অব্যাহত রয়েছে তাদের নানা অবৈধ কর্মকান্ড। অপ্রতিরোধ্য ভাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা স্বেচ্ছাচারিতা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও দেখার যেন কেউ নেই। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহকারী সুভাষ পাল জমির দাতা গ্রহিতাদের নানা কৌশলে জিম্মি করে এবং তিনি স্থানীয় হওয়ার সুবাদে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় সাবরেজিষ্টার তোফাজ্জল হোসেন এর নির্দেশে সেরেস্তা খরচের নামে দলিল ভেদে ১ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করছে। দাপট দেখিয়ে অপ্রতিরোধ্য ভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন অব্যাহত আছে বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।

অফিস সহকারী সুভাষ পাল এই অবৈধ আদায়কৃত টাকা প্রত্যেক দিন সন্ধ্যায় ভাগ বাটোয়ারা করে থাকেন বলে একটি সূত্র জানায়। জমির শ্রেণীর পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল সম্পাদন এ অফিসের নিত্য নৈমিত্তিক কর্মকান্ড। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক সাব রেজিষ্টার অফিসের এক অফিস সহকারী ও এক দলিল লেখক জানান, আরওআর দিয়ে দলিল করলে ৫’শ টাকা, খারিজের ফটোকপি দিয়ে দলিল করলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, দলিলে ভুলত্রুটি থাকলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, সরকারি ভাবে কমিশনে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ থাকলেও দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এমনকি জেলা রেজিষ্টারের কথা বলে প্রতি দলিলে ১ হাজার টাকা দিতে হয় অফিস সহকারী সুভাষ পালকে। 

এ ব্যাপারে কালিহাতী সাবরেজিষ্টার অফিসের সহকারী সুভাষ পাল মুঠোফোনে জানান, জেলা রেজিষ্টারের কথা বলে প্রতি দলিলে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা এবং খারিজের ফটোকপি দিয়ে দলিল করলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেই একথা সত্য নয়।

টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ সোনা বলেন, কালিহাতী সাবরেজিষ্টার অফিসে প্রতি লাখে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার দ্রুত প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্টার জানান, আমার কথা বলে প্রতি দলিলে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা নেয় হয় এ বিষয়ে আমি জানিনা। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।