১৯, আগস্ট, ২০১৯, সোমবার | | ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় যুবক নিহতের বিচার চেয়ে সড়কে স্বজনের আহাজারি

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯

ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় যুবক নিহতের বিচার চেয়ে সড়কে স্বজনের আহাজারি

বিশেষ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম ভৈরবে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে জুয়েল নামে এক যুবক নিহতের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। কমসূচিতে স্বজনদের আহাজারি আর কান্নার বিষাদ ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

রোববার (৭ জুলাই) সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মেঘনা ফেরিঘাট এলাকা থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌর শহরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড়ে অবস্থান নেয়া হয়। ফলে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন।

মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করেন ভৈরব পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন, পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ও যুবলীগ সভাপতি ইমরান হোসেন ইমন।

কর্মসূচীতে বক্তারা ভুল চিকিৎসায় জুয়েল নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক কামরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অবিলম্বে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এছাড়াও ভুল চিকিৎসায় এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে আর যেনো কোনো জুয়েলের অকালে মৃত্যু না হয় তারও দাবি জানান।

দ্রুত সময়ে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সড়ক, রেল ও নৌ পথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, শহরের ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে ওঠেছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার নামে অপচিকিৎসা চলছে। ফলে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন টেস্টের নামে তারা অসহায় মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। নতুবা তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

জানাগেছে, শহরের চন্ডিবের গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা জুয়েল। গত দু’বছরের বেশি সময় আগে দুর্ঘটনায় জুয়েলের এক হাতের হাড় ভেঙে যায়। ফলে অপারেশনের সময় তার হাতের ভেতরে প্লেট ঢুকানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) হাতের প্লেট খুলতে শহরের ট্রমা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও জুয়েলের জ্ঞান ফেরেনি। এতে স্বজনদের সন্দেহ হলে ওটিতে গিয়ে জুয়েলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

এদিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে জুয়েল নিহতের ঘটনায় গত শুক্রবার (৫ জুলাই) চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। ফলে গত শনিবার (৬ জুলাই) সকালে শহরের ট্রমা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতাল সরেজমিনে তদন্তে আসেন কমিটির সদস্যরা। এছাড়াও এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে তালা ঝুলছে মূল ফটকে।

অন্যদিকে নিহত জুয়েলের বড় ভাই কামাল মিয়া বাদী হয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ডা. কামরুজ্জামান আজাদকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। ফলে পুলিশের হাতে আটক চিকিৎসক কামরুজ্জামান আজাদকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

তবে রোববার (৭ জুলাই) আদালত থেকে তাকে জামিন দেয়া হয়।