২১, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার | | ৯ রমজান ১৪৪২

হাইমচর চরভৈরবী ইউনিয়নে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন সরকারের ৩শত কোটি টাকার স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষাবাঁধ হুমকির মুখে

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৯

হাইমচর চরভৈরবী ইউনিয়নে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন সরকারের ৩শত কোটি টাকার স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষাবাঁধ হুমকির মুখে

মোঃ মাছুম বিল্লাহ:

হাইমচর উপজেলার ৬নং চরভৈরবী ইউনিয়নে আমতলি এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ নদীর পাড় সংলগ্ন বসত ভিটা এবং সরকারের ৩শত কোটি টাকার স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষাবাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে।

মেঘনার ভাঙ্গনের সংবাদ পেয়ে গতকাল বুধবার সকাল ৮ টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী মো. আবু রায়হানকে সাথে নিয়ে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফেরদৌসি বেগম মেঘনার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে মসজিদসহ নদী রক্ষাবাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষনিক জিও ব্যাগ পেলেন।

স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশ্যে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, আমরা আপনাদের সেবক, আপনাদের সেবা করাই আমাদের কাজ। আপনাদের বসত ভিটা, মসজিদ, যায়গা জমিন নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে তা আমরা হতে দিতে পারি না। আমি সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে এসছি। খুব দ্রুত জিও ব্যাগের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবো। খুব সহসাই উধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগযোগ করে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে নদী ভাঙ্গন রোধ করবো।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান নূর হোসেন পাটওযারী বলেন, আমি গতকাল রাতে আপনাদের এলাকায় নদী ভাঙ্গনের সংবাদটি পেয়েছি। রাতেই জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আজ সকালে ভাঙ্গন কবলিত ঘটনাস্থলে এসেছি। তিনি বলেন, যতদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার থাকবে, যতদিন ডা. দীপু মনি এমপি থাকবেন ততদিন হাইমচরের মাটি এই সর্বনাসা মেঘনা একতিলও ভেঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফেরদৌসী বেগম জানান, ভাঙ্গনকৃত এলাকাটি আমি পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অতি দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলি মাষ্টার জানান, গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে আমার এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে সরকারের স্থায়ী প্রকল্প নদী রক্ষাবাঁধ চরম হুমকির মুখে রয়েছে। আর একদিন অতিবাহিত হলে স্থানীয় মসজিদটি নদীর গর্বে বিলীন হয়ে যেতো। আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহি অফিসারকে বিষয়টি জানালে চেয়ারম্যান সাহেব পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এসে তাৎক্ষনিক জিও ব্যাগ পেলে মসজিদটি রক্ষা করেন।

এছাড়া পরে চরভৈরবী ইউনিয়নের জালিয়ার চরে নদী ভাঙ্গনকৃত এলাকা পরিদর্শন করেন পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী, উপ প্রকৌশলী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এসএম কবির, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদারসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।