৩, মার্চ, ২০২১, বুধবার | | ১৯ রজব ১৪৪২

কলাপাড়ার নাজমা-সোবাহান দম্পত্তির পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে!আপাতত ৯৯৯ তে ফোন করে রক্ষা

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৯

কলাপাড়ার নাজমা-সোবাহান দম্পত্তির পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে!আপাতত ৯৯৯ তে ফোন করে রক্ষা

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: আবারো হোন্ডা বাহিনীর মহড়ায় শংকায় জীবন-জীবিকার পথটুকু বন্ধের উপক্রম হয়েছে সোবাহান ও নাজমা দম্পতির। বর্তমানে এক ছেলের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। আয় রোজ গারও প্রায় বন্ধ। জীবন-জীবিকার পথটুকু ফিরে পেতে প্রসাশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনায় হতদরিদ্র ছোবাহান।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী গ্রামে অন্যের বাড়িতে আশ্রীত সোবাহান ও নাজমা দম্পতির। পরিবার। মধুখালী থেকে তেগাছিয়া যাওয়ার সড়কের পাশেই একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস।

সেবাহান তার নিজের জমির পাশের কালভার্টের মুখে একটি জাল পেতে যা মাছ পেত তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের ভরপোষন বহন করতো। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধের শঙ্কায়। গত সোমবার রাতে যুবলীগের ক্যাডার পরিচয়ে একই এলাকার বদিউল, নাদিম, দুলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল হোন্ডাবাহিনী সন্ত্রাসী হামলা চালায় তার উপর। প্রথমে সোবাহনকে চলা (লাকড়ি) দিয়ে পেটাতে থাকে। স্ত্রী নাজমা স্বামীকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে তার উপরও চলে হামলা। বাবা-মাকে রক্ষায় এগিয়ে আসে এইএসসি পরীক্ষা দেয়া বড় ছেলে রুমান। তাকেও মারধর করা হয়। তার উপার্জনের একমাত্র জালটি ছিড়ে ফেলা হয়। গ্রামের লোকজন জড়ো হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়না। ক্যাডাররা ওই স্পটে জাল পাতার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারা নিজেরাই জাল পাতবে এমনই হুমকি দেয়। উপায়ন্ত না পেয়ে ৯৯৯ তে ফোন করেন সোবাহান। তাৎক্ষণিক কলাপাড়া থানার এসআই বিপ্লব মিস্ত্রি ঘটনাস্থলে পৌছেন। সোবাহানকে আশ^স্ত করেন। বিষয়টি স্থানীয় এমপি অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমানকে অবগত করানো হয়। তিনি সোবাহান দম্পতির ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে এ পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তার পরিবার এবং পেটের জন্য নিজের জমির ওপরে রাস্তার কালভার্টে জাল পেতে জীবীকার নিশ্চয়তার জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সোবাহান জানান, তার ওপর ফের হামলার শঙ্কা করছেন। জালটি ছিড়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া রুমানের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে ও নবম শ্রেণির খোকনের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ছোট ছেলেকে ফের মারধরের ভয়ে স্কুলে পাঠানো বন্ধ রয়েছে। কারন হামলাকারীরা সবাই স্কুলে যাওয়ার পথের আশপাশে আড্ডা দেয়।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, সোবাহানের উপর কোন ধরনের হামলা তো দুরের কথা কেউ সমস্যা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান জানান, দরিদ্র সোবাহানের পরিবারকে যারা হয়রাণি কিংবা উপার্জনে বাধা হয়ে দেখা দিবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।