৮, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

মির্জাপুরে উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ধস

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯

মির্জাপুরে উদ্বোধনের আগেই ব্রিজে ধস

রাজু আহমেদ(মির্জাপুর প্রতিনিধি) মির্জাপুরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত ব্রিজের দুইপাশ ধসে পড়েছে। মির্জাপুর উপজেলার ০৩ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটির দুইপাশের সংযোগ সড়ক নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ধসে গেছে। এমতাবস্থায় বর্তমানে ব্রিজটি দিয়ে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পারদিঘী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।

জানা যায়, ফতেপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের আমলে ফতেপুরের ঝিনাই নদীর পারদিঘী খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১১ মিটার ও প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এরপর ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) থেকে দরপত্র আহ্বান করার পর ‘ওরিয়েন্ট ট্রেড’ নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঐ বছরের ২৫ নভেম্বর কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১৫ জুন কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সেই সময় গড়িয়ে জুলাই মাস নাগাদ কাজ শেষ হয়। কিন্তু নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ফলে সেই বছর সেতুটি বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে দুইপাশে ধসে পড়ে। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাঠের সাঁকো তৈরি করলে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতো বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটির গাইডওয়ালের উত্তরপাশের বেশ কিছু অংশ ও দক্ষিণ পাশে বালু মাটি ধসে পড়ে নদীতে চলে যাওয়ায় সড়কটির সাথে ব্রিজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পারদিঘী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। চলতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেয়ায় ব্রিজটি এর কবলে পড়েছে। এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাসহ নানা ধরনের ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে থাকে। একই সাথে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে থাকে।

এলাকাবাসীরা জানান, পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার সাথে মির্জাপুরের একমাত্র সংযোগ সড়ক এটি। এখন ব্রিজটির এমন বেহাল দশার কারণে বাসাইল-মির্জাপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা অতি দ্রুত এই ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ করে সড়কটি সংস্কারের দাবি করেন। একই সাথে নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে ব্রিজটি রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে, স্থানীয়রা ব্রিজ নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজ নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করায় ও ব্যাপক অনিয়ম আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে উদ্বোধনের আগেই ব্রিজটির এমন নাজেহাল অবস্থা হয়েছে বলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে কাজ পেছানোর ফলে আর নদীর অব্যাহত ভাঙনে ব্রিজটি রক্ষায় কাজ করা অত্যন্ত জরুরী। শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়কের নির্মাণ করে ব্লক বসানোর কথা জানান। ব্রিজটির নির্মাণকাজের পর দুইপাশে ধসে যাওয়ার ফলে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এরই আওতায় নদী ভাঙনের কবল থেকে ব্রিজটি রক্ষায় সিমেন্টের তৈরি ব্লক বসানো হবে।

মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান জানান, যথাযথ নিয়মে নকশা অনুযায়ী ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নদী ভাঙনের কবলে ব্রিজটির দুইপাশের সড়ক ধসে গেছে। নতুন নকশা তৈরির মাধ্যমে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে আগামী শুষ্ক মৌসুমে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।