১৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

চৌগাছায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯

চৌগাছায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন

আব্দুল আলীম, চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় ‘ইউএস এ আইডি ও উইনরক ইন্টারন্যাশনাল’ এর অর্থায়নসহ সহযোগিতায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বাস্তবায়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সামগ্রিক পাঠ পর্যালোচনার মাধ্যমে সুশীল সমাজকে সচেতন করায় ছিলো ওরিয়েন্টেশনের মূল উদ্দেশ্য। কারণ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবার পিছনে বড় বাঁধা বাল্যবিবাহ। 
আজ সোমবার ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলামের তত্বাবধায়নে আশরাফ ফাউন্ডেশনের চৌগাছা উপজেলা অফিসে সকাল নয়টায় এই ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করা হয়। ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকছুরা জান্নাত। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপজেলা প্রকল্প সমন্বায়ক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রোগ্রাম সহকারি জাহাঙ্গীর হোসেন, সিংহঝুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলী কদর, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী পাচার রোধে অনেক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট থাকা শামসুর রহমান। 
অংশগ্রহণকারী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, স্থানীয় নেতা (ইমাম) ও গণমাধ্যমকর্মী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল আলীম, সাংবাদিক কবিরুল ইসলাম, সাংবাদিক মহিদুল ইসলাম।
ওরিয়েন্টেশনে বাল্যবিবাহ, বাল্যবিবাহের কারণ, কুফল, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন-২০১৭, বাল্যবিবাহের শাস্তি, প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সাথে আলোচনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম। ওরিয়েন্টেশনের সামগ্রিক আলোচনায় উঠে আসে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে। সেখানে চলে আসে ১৮ বছরের আগে মেয়ে এবং ২১ বছরের আগে ছেলের বিবাহ হলো বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের কারণ হিসাবে দেখা যায় দারিদ্র্য, ইফটিজিং, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, অপ্রাপ্ত বয়সে কুসম্পর্ক, অশিক্ষা, ভালো পাত্র পাওয়া, আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়া, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, প্রচলিত কিছু মৌখিক প্রথা, যৌতুক, অসচেতনতা প্রভৃতি। 
কুফল হিসাবে বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ, পারিবারিক অশান্তি, অকাল মৃত্যু, স্বাস্থ্য হানি, পাঁচারের শিকার, মানসিক চাপ, অপুষ্ট সন্তান জন্ম, দারিদ্রতা, মাদকাসক্তে আসক্ত, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গর্ভপাতে মৃত্যু ইত্যাদি বাড়তে থাকে।
আলোচনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধক আইন- ২০১৭ মোতাবেক শাস্তি হিসাবে জানা যায়, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর কারাদন্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, সর্বনিম্ন শাস্তি ১ মাসের আটকাদেশ অথবা ৫০০০০/ টাকা জরিমানা। এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহে আবদ্ধ ব্যক্তি, পরিচালনাকারী, অভিভাবক ও ইন্ধনকারীরা এই শাস্তির আওয়াতায় আসবে। বিবাহ নিবন্ধক অর্থাৎ কাজীর ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিল হবে। সব মিলিয়ে এটায় প্রতীয়মান হয় যে, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনত শাস্তি অবধারিত। আরও জানা যায়, ২০১৪ সালে নোটারীতে এভিডেফিটের মাধ্যমে বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ এ সম্পর্কিত জরিপে জানা যায় নোটারীতে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয় বেশি। এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত মাকছুরা জান্নাত বলেন, সমাজে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে সকলকে সচেতনতা করার জন্য বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত আলোচনা করতে হবে।
বিবাহ ও তালাক রেজিঃ আইন-১৯৭৪ ও হাইকোর্টের রুল হতে আরও অবগত হওয়া যায় যদি বাল্যবিবাহ হয়েই থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের জন্য কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। আর এই কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ভেকুটিয়াতে আছে।