১৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

মির্জাগঞ্জের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯

মির্জাগঞ্জের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার

খান মোঃ আসাদ উল্লাহ, মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মির্জাগঞ্জের বর্তমান জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগের পটুয়াখালী জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই (শুক্রবার) তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও সভাপতি ছিলেন। 
খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী পর পর দুবার নির্বাচিত মির্জাগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান। এর আগেও তিনি উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
গত ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মির্জাগঞ্জের উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় নৌকা প্রতীক চাইলে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এবং দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন পটুয়াখালী ১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার বেয়াই গাজী আতাহার উদ্দিন আহমেদ। 
গত ৩১শে মার্চ, ২০১৯ (রবিবার) ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৪র্থ ধাপে পটুয়াখালী জেলার সকল উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী নিজস্ব জনপ্রিয়তায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ব্যবধানে ২য় বারের মত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করার কারণে তাকে পটুয়াখালী জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেন। তবে অনেকের মতে, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এব্যাপার পরপর দুবার নির্বাচিত মির্জাগঞ্জের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে আসছি, আজন্ম আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে যাবো। আমি পোস্ট পজিশনের আশায় রাজনীতি করিনা।জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবাসি তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা তলে থেকে জনগণের সেবা করে যেতে চাই।”
তবে তার বহিষ্কৃত হওয়ার বিষয়টা মেনে নিতে পারছেনা দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও মির্জাগঞ্জের জনগণ। বহিষ্কারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলেন, তার মত একজন ত্যাগী নেতাকে বহিষ্কারের কারণে দিনেদিনে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পরবে মির্জাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ।