৫, জুলাই, ২০২০, রোববার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

মোঃ ইলিয়াস আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে সরকারি ইন্টারনেট সংযোগের কাজে কর্মরত টেকনিশিয়ানকে গণপিটুনির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে কামাল হোসেন নামের এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কামাল হোসেন জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ এলাকায় ইন্টারনেটের ফাইবার টানতে গেলে গণপিটুনির শিকার হন ইন্টারনেট টেনকিশয়ান ইউনুস আলী। তিনি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার আদখোলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। ইনফো সরকার ফেস-৩ প্রকল্পের আওতায় অপটিক্যাল ফাইবার টানার কাজে ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জে কর্মরত রয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আসামিরা হলেন- প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন (৪০), মজিদুল হক (৩৫), কাঠমিস্ত্রি মাসুম (৩০), টিকা মোহাম্মদ (৫০), আক্তারুল হক (৩৫)।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বজলুর রহমান জানান, পীরগঞ্জ এলাকায় প্রকল্পের কাজে এসেছিলেন টেকনিশিয়ান ইউনুস। ছেলে ধরা সন্দেহে গুজব রটিয়ে ইউনুসকে গণপিটুনির নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষক কামাল। তার নেতৃত্বে দলবদ্ধ একটি দল ইউনুসকে গণপিটুনি দিয়ে তার পকেটের সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে খবর পেয়ে আহত টেকনিশিয়ানকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেন।

ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় আটক প্রধান শিক্ষককে কামাল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত টেকনিশিয়ান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে তৎপর অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।