১০, ডিসেম্বর, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

ঢাবির কলা ভবনে আপত্তিকর অবস্থায় যুগল;ক্ষিপ্ত হয়ে পিওনকে মারধর

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০১৯

ঢাবির কলা ভবনে আপত্তিকর অবস্থায় যুগল;ক্ষিপ্ত হয়ে পিওনকে মারধর

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধা ৬ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের চতুর্থ তলায় আপত্তিকর অবস্থায় এক যুগলকে পাওয়া যায়। জাপানিজ স্টাডিস ডিপার্টমেন্টের পিওন লাবু তাদের এই কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর ভিডিও ধারন করে ব্লাক মেইল করার চেষ্টা করেছেন এজন্য তাকে  মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ছেলেটির নাম নিশাত তিনি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিপার্টমেন্টের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মেয়েটিও একই শিক্ষাবর্ষের  ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী দৈনিক সময়ের কন্ঠকে বলেন, শ্যাডো থেকে কলা ভবনের দিকে আসার সময় দেখি কয়েকজন শিক্ষার্থী লাল শার্ট পরিহিত একজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করছে তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টের সহকারী অধ্যাপক আলী রেজা স্যার ঐ লোকটিকে সেফ করার চেষ্টা করেন। মারধর করতে  করতে লোকটিকে কলা ভবন থেকে  শ্যাডো পর্যন্ত নিয়ে যান। পিছন থেকে অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে আসলে মারধরকারী শিক্ষার্থীরা দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন কর্মচারীরা প্রক্টরিয়াল টিমকে ফোন দিলে তারা এসে ফয়সাল নামের একজনকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। ফয়সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ হলের ২০১৮ -১৯ শিক্ষাবর্ষের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী।  ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে বলেন, নিশাতের আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারন করে তিন হাজার টাকা দাবি করলে তখন নিশাত তার বন্ধুদের ফোন করে আসতে বলে এবং পিওন লাবুকে মারধর করে। তারা  পিওন লাবুর ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ স্বিকার করেন। তবে ভেঙে ফেলা ফোনটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।
জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের পিওন দৈনিক সময়ের কন্ঠকে বলেন, চতুর্থ তলায় একটি ছেলে ও মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় আমি দেখতে পাই। তখন প্রক্টর অফিসে দেখানোর জন্য আমি তাদের ছবি তুলি এবং পরিচয়  জিজ্ঞেস করি। মেয়েটি ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। তাদের প্রক্টর অফিসে আসার জন্য বলা হলে লজ্জায় মেয়েটি আসতে রাজি হয়নি পরে মেয়েটিকে আমি বের করে দেই। এর পরে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী উপরে আসে এবং আমাকে মারধর শুরু করে।  তারা আমাকে মারতে মারতে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টের রেজা স্যার, প্রক্টর অফিসের প্রশাসনিক অফিসার রেজা ভাই আমাকে উদ্ধার করেন। তিনি আরো বলেন  তারা আমার ফোন ভেঙে  ফেলেছে এবং আমাকে যেভাবে নিয়ে যাচ্ছিল মনে হয় মেরে ফেলতো।  রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টের রেজা স্যার আমাকে বাঁচাতে আসলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন ওরা।এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লাবুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে কলেজের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায় প্রক্টরিয়াল টিম। তার মাথায়, পিঠে,  হাতে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে তিনি জানান।  শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।