২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থআত্মসাৎ’র অভিযোগ নাচোল সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৯

বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থআত্মসাৎ’র অভিযোগ নাচোল সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

সেলিম রেজা নাচোল প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে’র নাচোল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা  আনোয়ার আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিআইজি ননসিআইজি প্রকল্পে মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষনের নামে লাখ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনায়  মৎস্যচাষীরা এ অভিযোগ করেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, নাচোল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আনোয়ার আলী। মৎস্য চাষীরা বলেন, ইউনিয়ন ভিত্তিক দু’টিকরে ২০জন সিআইজি ও ১৫ জন করে নন-সিআইজি সর্বমোট ৩৫ জন সদস্যের একটি দল দিনব্যপি প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা। ইউনিয়ন ভিত্তিক দুটি দল ২ দিনে ৩৫ জন করে এ প্রশিক্ষণ নেয়ার নিয়ম রয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে,  কিন্তু মৎস্য অফিসার নাম মাত্র কয়েক ঘন্টা প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়সারা ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

আর এ সুযোগে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। জানাগেছে, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ২টি করে সিআইজি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে ২০ সিআইজি’র সাথে ১৫ জন নন সিআইজি নিয়ে সর্বমোট ৩৫ জনের একটি গ্রুপ দিনব্যপি প্রশিক্ষণ নেবেন, সেখানে সিআইজি ও নন সিআইজি প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের জন্য সম্মানী ভাতা রয়েছে ২০০/ টাকা, সাথে দুপুরের খাবার, সকালের এবং বিকালের নাস্তার জন্য বরাদ্ধ রয়েছে ২০০/ টাকা, এরসাথে প্রশিক্ষণ হ্যান্ড আউট ১০০/- টাকা, সর্বমোট ৫০০/ টাকা করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রশিক্ষনার্থীদের দেয়া হয়েছে মাত্র ২০০/- টাকা বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

ওই প্রকল্পে ৭৫০/- টাকা প্রশিক্ষক সম্মানি ভাতা ৩ জনকে দেয়ার নিয়ম থাকলেও মৎস্য কর্মকর্তা ৩ জনের সর্বমোট ২২৫০/-টাকা না দিয়ে নিজেই পুরো টাকা আতœসাৎ করেছেন বলেও মৎস্য চাষিরা জানান। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মৎস্য অফিসার ব্যাতিত অন্যকোন ব্যক্তি সেই প্রশিক্ষণ  সেন্টারে যায়নি বলে মৎস্যচাষীরা অভিযোগ করেন।

দিনব্যপি একটি করে প্রশিক্ষণ দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই কর্মকর্তা অর্থের লোভে ফতেপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর কলেজ চত্বরে গত ২৮ মে ফুরশেদপুর মৎস্যসমিতি ও কাতলা কান্দর মৎস্যসমিতিকে নিয়ে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন। ফুরশেদপুর সিআইজির সভাপতি শাহজাহান আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন, শুধু খাতায় স্বাক্ষর করে ২’শ টাকা দিয়েই প্রশিক্ষণ শেষ। একই অভিযোগ নেজামপুর ইউনিয়নের মুরগীডাঙ্গা ও বকুলতলা  সমিতির আব্দুর রহমান মানিকসহ সিআইজির অন্যান্যদের। ৪নং নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত ২৬ মে

এ-প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়। এছাড়া কসবা ইউনিয়ন পরিষদে গত ৯  মে ও ১৫ মে, নাচোল ইউনিয়নের নাচোল উপজেলা পরিষদ হলরুমে  পৃথক পৃথক ভাবে প্রশিক্ষণ হলেও প্রশিক্ষনার্থীদের দেয় হয়েছে মাত্র ২০০/-টাকা বলে জানান খেসবা গ্রামের একরামুল হক এর ছেলে জহুরুল ইসলাম। এছাড়া মৎস্য প্রদশর্নী নামেও আত্মসাৎ করা হয়েছে হাজার হাজর টাকা বলে চাষিরা জানান।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এ প্রকল্পে মৎস্য কর্মকর্তার প্রশিক্ষনের নামে লাখ লাখ টাকা আতœসাৎ ঘটনায় প্রশিক্ষনার্থীরা সরোজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।