১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ছেলেধরা গুজব প্রতিরোধে খানসামা উপজেলা প্রশাসন এবং থানার মাইকিং

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৯

ছেলেধরা গুজব প্রতিরোধে খানসামা উপজেলা প্রশাসন এবং থানার মাইকিং

মোঃ নুরনবী ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ছেলেধরা’ গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহবান জানিয়ে চালানো হচ্ছে নানা রকম প্রচারণা।

সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে একটি কুচক্রী মহল পদ্মাসেতু তৈরীতে মাথা লাগবে কিংবা ছেলেধরার গুজব ছড়ায়। এমন গুজবে উপজেলার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার হ্রাস পায়। ভীতি ছড়িয়ে পরে অভিভাবকদের মধ্যে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে খানসামায় গত বুধবার সকাল থেকে খানসামা থানা পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন ও ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দের পক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।

উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আহম্মেদ শাহ্, খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল হক সাজু ও ভাবকি ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, আমরা আমাদের ইউনিয়নে ইতিমধ্যে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি শুরু করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন বাজারে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ মতিন প্রধান জানান, ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে কাউকে গণপিটুনি না দেয়ার জন্য জনসাধারণকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। খানসামা থানার আওতাধীন সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া কোথাও ছেলেধরা সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ছেলেধরার ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। যারা বিভিন্ন সময় গণপিটুনির স্বীকার হয়েছেন তারা অধিকাংশই মানসিক ভারসম্যহীন বা নিরীহ মানুষ। ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে কাউকে হত্যা বা গণপিটুনি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা মূলক পোস্ট দিয়ে খানসামাবাসীকে গুজবে কান না দেওয়া ও আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহবান জানান। কাউকে সন্দেহ মনে হলে তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশ ও ৩৩৩ নম্বরে কল দিয়ে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন।