২২, জানুয়ারী, ২০২১, শুক্রবার | | ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে সচেতনতামূলক ষ্টিকার লাগানো কর্মসূচি চলছে

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৯

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে সচেতনতামূলক ষ্টিকার লাগানো কর্মসূচি চলছে

মোঃ নাঈম শাহ্, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে অদ্য ৫ই আগষ্ট নীলফামারীতে সচেতনতা মূলক ষ্টিকার লাগানো হয়েছে। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল, নীলফামারী সদর উপজেলা, গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ, হাজিগঞ্জ বাজার, কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা সমাজসেবা, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি, পুরাতন ষ্টেশন রোড, ডালপট্টি, পৌর সুপার মার্কেট সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক ষ্টিকার লাগানো হয়েছে। নীলফামারীতে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ মূলক দুই হাজার ষ্টিকার লাগাবে দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা।

দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি আব্দুল মোমিন বলেন, ডেঙ্গুজ্বর একটি ভাইরাস জনিত জ্বর এবং এডিস মশা এই রোগের বাহক। ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। এডিস মশার কারণেই ছড়ায় ডেঙ্গু। তাই ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাই কয়েকটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি।

এডিস মশা মূলত দিনের বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে রাত্রে উজ্জ্বল আলোতেও এডিস মশা কামড়াতে পারে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে ঘরের দরজা ও জানালায় নেট লাগানো যেতে পারে। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলন্ট স্প্রে, লোশন, ক্রিম, কয়েল ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরাতে হবে।

এডিস মশা জমা হওয়া স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি তিন থেকে পাঁচ দিন পরপর ফেলে দিতে হবে। এতে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বাড়ির ছাদে অনেকেই বাগান করে থাকেন। সেখানে টবে বা পাত্রে যেন কোনো ধরনের পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না জমে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘরের বাইরে মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি জমতে পারে—যেমন: ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের পরিত্যক্ত খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মশা নিধনের জন্য স্প্রে বা ফগিং করতে হবে। বিভিন্ন রাস্তার আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের টব, গাছপালা, জলাধার ইত্যাদি দেখা যায়। এখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলোতেও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল দিতে হবে।