১৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৯

নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম

মো: নাঈম শাহ্, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম ও দূর্নিতির
অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল
কম দেওয়ার সাথে সাথে ভিজিএফ’র কার্ডের চাল বিক্রয় করে দেওয়ার অভিযোগ করছে
স্থানীয় এলাকাবাসীরা। এছাড়া গরীব দুঃখীদের বাদ দিয়ে বিত্তবানদের ভিজিএফ’র
কার্ড দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় ভিজিএফ সুবিধাভোগীরা অভিযোগ
করেন ১২ কেজি ১৩ কেজি করে ভিজিএফ’র  চাল বিতরণ করছে। চাল কম দেওয়ার
ব্যাপারে ইউপি সদস্যরা বলছেন চেয়ারম্যান চাল বিতরণে আমাদের কোন সাহায্য
ছাড়াই জামায়াত পন্থী চেয়ারম্যান মোস্তফা ইসলাম তার নিজ চেলাপেলাদের
দ্বারা চাল বিতরণ করছে। চাল বিতরণে আমাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই, এখন
চেয়ারম্যান যদি চাল কম দেয় তাহলে আমরা কি করবো। এছাড়া ছেড়া ও স্যাতস্যাতে
রঙের  জাতীয় পতাকা টাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ।
সোনারায় ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আনসার আলীর ছেলে লিমন ইসলাম বলেন, “ আমি
আমার বাবার আর আমার চাচার  ২টা স্লিপ নিয়া আসছি , স্লিপের চাল পেয়েছি ২৭
কেজি যেখানে চাল দেওয়ার কথা ৩০ কেজি চাল ৩ কেজি চাল কম পেয়েছি।” সোনারায়
ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পিতা মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে আয়নুল হোসেন বলেন, “
গোডাউনে আগেই বস্তার মুখ খোলা ঐ বস্তার চাল এনে আমাদের বস্তায় ঢালি
দিচ্ছে। যেটুকু চাল পেলাম মনে হয় না ১৫ কেজি চাল আছে , অবশ্যই ২ কেজি চাল
কম হবে।” ১ নং ওয়ার্ডের তসলিম উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন  বলেন,“ যাদের
চার পাঁচ দোন জমি আছে তারা পায় তিন চারটা করে স্লিপ। আর যাদের ছেলে
সন্তান নাই ভিক্ষা কওে খায় তারা পায় না একটা স্লিপো। ” সোনারায় ইউনিয়নের
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কমল চন্দ্র রায় বলেন,“ চাল বিতরণ করার ব্যাপারে
চেয়ারম্যান আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ করে নি। চেয়ারম্যান তার নিজের
জামায়াত পন্থী চেলাদের দ্বারা চাল বিতরণ করছে। এছাড়া গত ঈদে চেয়ারম্যান
চাল কম দিছিলো চাল বাচছিলো। সেই চাল ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি
ধরেছিলাম তখন চেয়ারম্যানের সাথে আমার সংঘর্ষ হয়েছিলো। ছেড়া পতাকার
ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সাথে মাসিক সভায় কথা হয়েছিলে সেটা পাল্টানো বিষয়
চেয়ারম্যানের ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় নি তাই মনে হয় পাল্টায় নি।”
সোনারায় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস মোঃ লিটন ছেড়া পতাকার ব্যাপারে
বলেন, “ আমরা মাসিক মিটিংএ একড্যার মাস পর আসি পতাকার অবস্থা এরকম জানিই
না। চেয়ারম্যান জামায়াতি মানুষ উনি যদি পতাকা অসম্মান করে তাহলে আমরা কি
করবো।” চালের বস্তার মুখ আগেই খোলা এ ব্যাপারে সোনারায় ইউনিয়নে নিয়োজিত
ট্যাগ অফিসার আশরাফুল আনাম বলেন, “ ২টা স্লিপ মিলে একটা বস্তার চাল ঢেলে
দেওয়া হচ্ছে। ভিরের কারণে হয়তো আগেই চালের বস্তা খোলা হচ্ছে।” চাল কম
দেওয়া ও পতাকার ব্যাপারে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা সাথে
কথা বলার চেষ্টা করলে ব্যাস্ততা দেখিয়ে তিনি বিষয়টি  এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে
নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার বলেন,“বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা
হবে।”