২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুড়ছে বৃদ্ধ মা বিবি জাহানারা বেগম

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯

ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুড়ছে বৃদ্ধ মা বিবি জাহানারা বেগম

ভোলা প্রতিনিধি মোঃ জাফর ইসলাম:-  বিধবা ৫৫ বছরের বৃদ্ধ জাহানারা বেগম। গ্রামের সহজ সরল একজন মা। চার মেয়ে ও দুই ছেলের জননী তিনি। অভাবের সংসার কোন মতে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। দুই ছেলে সহ অভাবের সংসারে উপার্জনকারী একমাত্র ছেলে পিন্টু (৩৭)। মেঘনায়  মাছ ধরাই পেশা উপার্জন করেন। পিন্টু বউ বাচ্চা নিয়ে নদীতে মাছ ধরে বহুকষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে বৃদ্ধা মাকে আগলে রেখেছেন। নুন আনতে পান্তা ফুরায় আর সেই পান্তা খেয়ে মা জাহানারা ছেলের কাছে বেশ ভালোই ছিলেন। 

ভোলা লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মুনছুর মাঝির ছেলে মেঘনার ভয়ঙ্কর জলদস্যু জাহাঙ্গীর কেড়ে নিল মা জাহানারার একমাত্র অবলম্বন উপার্জনকারী ছেলের প্রাণ।  চাঁদার দাবিতে বাক বিতন্ডা করে এক পর্যায়ে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এই বৃদ্ধা মা। নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। ৪ জুন রাত ৮ ঘটিকার সময় জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা মৃত পিন্টুর লাশ মঙ্গল শিকদার লঞ্চঘাটে রাখেন।

সংবাদ পেয়ে লালমোহন থানার এসআই মাসুদ রানা সংগীয় ফোর্স  নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট লিখে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। লালমোহন থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। যাহার নং ০৫ /১৯ইং।

প্রথম থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে পিন্টু কে হত্যা করা হয়েছে এই মর্মে লালমোহন থানায় মামলা করতে চাইলেও থানায় তাদের মামলা  গ্রহণ না করায় বৃদ্ধ মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ভোলা জজ কোর্টে জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামীকরে আরো  ৫ জনের বিরুদ্ধে  ভোলা জজ কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যাহার নং৭৯/২০১৯ইং (লাল)। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে ১ অক্টোবরের মধ্যে নালিশি দরখাস্ত বর্ণিত অভিযোগের সত্য মিথ্যা সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ভোলা সিআইডি কর্তৃক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে নিহত পিন্টুর চাচাত ভাই সাজাহান মাঝি জানান, জাহাঙ্গীর , মহিউদ্দিন, মো: সালাউদ্দি,  মো: হেলাল উদ্দিন, মোসলে উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন মিলে আমার চাচাতো ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা মামলা করা সত্বেও আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্য গুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে আমাদেরকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীন ভাবে আছি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জেলেরা জানান, মেঘনায় নিরীহ জেলেদেরকে জিম্মি করে টোকেনের মাধ্যমে নৌকা প্রতি ৫ হাজার টাকা করে টিকিট দিয়ে থাকেন জাহাঙ্গীর বাহিনী। জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটে গড়ে উঠেছে লালমোহন মেঘনা পাড়ে অপরাধের স্বর্গরাজ্য। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে জাহাঙ্গীর গুম, খুন,ডাকাতি সহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে এখানকার  মূর্তিমান আতংক।

ভোক্তভেগীরা জানা,  ২০০৭ সালে ধলীগৌরনগর ২নং ওয়ার্ডের শফিউল মৃধার ছেলে মফিজ  ও মোস্তফা মৃধার ছেলে আবুল কালাম কে হত্যা করে জাহাঙ্গীর।  ওই ঘটনায়  জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে  হত্যা মামলা হলেও  স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ওই হত্যা মামলা তুলে দিতে বাধ্য হন বাদীপক্ষ। গত ২২/৯/২০০৮ ইং সালে চরফ্যাশন মেঘনা নদীর বেতুয়া এলাকায় ডাকাতির  ঘটনায় জাহাঙ্গীর সহ তার বাহিনীর ৭ জনের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। যাহার নং জি আর ৩২/৩৬৭।

জাহাঙ্গীর মেঘনা নদীর কামার খাল, গাইট্টার খাল, বুড়ির দৌন, বাত্তির খাল এলাকায় একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সকল অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্তাদের যোগসাজশে প্রায় কয়েক কোটি টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।ওই সকল এলাকার বেশ কিছু বাড়িতে এই নিষিদ্ধ করেন্ট  জাল রেখে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

জাহাঙ্গীরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন করতে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকার অপকৌশল হিসেবে সু-কৌশলে ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি।  কিন্তু জাহাঙ্গীরের  এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লালমোহন উপজেলার শ্রমিক লীগের হাই কমান্ড জানার পর পরই তাকে শ্রমিকলীগের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এই জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে  কামার খাল ও বাত্তির খালের মাঝামাঝি  মেঘনা নদীর মধ্যে ৮নং চরের পূর্ব পাশে উড়ির চরের পশ্চিম পাশে      প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত  খুটা জাল  ও জম খুরচি জাল দিয়ে ছোট ছোট মাছ নিধন করেছে। তার টিকেট প্রাপ্ত জেলে ছাড়া সাধারণ কোন জেলে সেখানে মৎস্য আহরন করতে পারছেনা।  এ ব্যাপারে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয়  পত্রিকায় সংবাদটি ফলাওভাবে প্রকাশ হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান,  জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনই  অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম মূল্য দিতে হবে। তাই এখনই প্রশাসনকে কঠোর হস্তে দমনের জোড় দাবী  জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় আমাদের থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিলো। আমরা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের ময়না তদন্তের রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি। সেখানে উল্লেখ করা আছে পিন্টু পানিতে ডুবে মারা গেছে। যেহেতু আদালতে মামলা হয়েছে এবং তদন্তের ভার সিআইডি কে দেয়া হয়েছে তাই আমাদের করণীয় কিছু নেই। পরবর্তীতে  আদালত আমাদেরকে যে নির্দেশনা দিবে আমরা তা গ্রহন করবো। জাহাঙ্গীরের  বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।