২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

মাদারীপুর-০৩ আসনে আওয়ামী লীগের আসন ধরে রাখার লড়াই ইব্রাহিম

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০১৮

মাদারীপুর-০৩ আসনে আওয়ামী লীগের আসন ধরে রাখার লড়াই ইব্রাহিম
এইচ এম ইব্রাহিম: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে মাদারীপুর-০৩ আসনের ভোটারদের মধ্য চাঞ্চল্য ততই বেড়ে চলছে। কারন এ আসনে রয়েছেন আফম.বাহাউদ্দিন নাসিম ও সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় হেবী ওয়েট প্রার্থী । তাই কেন্দ্রের ঘোষনায় কে পাচ্ছেন মাদারীপুর-০৩ আসনের নৌকার টিকিট তাই নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন আ. লীগের বিভিন্নপন্থীও লোকজন ও নেতা-কর্মীরা। তবে সংসদীয় এলাকার দলীয় ও সাধারন মানুষ এবার ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে ভোটারদের মধ্য দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ । কিন্তু হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ আবদুস সোবাহান গোলাপ মনোনয়ন পেয়েছেন বলে উপজেলায় গুঞ্জন শুরু হলে হাটবাজার, চয়ের দোকানগুলোতে দেখা দিয়েছে নির্বাচনী বিতর্ক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ।
অতীতের দিকে চোখ বুলালে দেখা যায়, মাদারীপুর-৩ সংসদ আসনে ১৯৭১ সালের পর ২০ বছর জয় বঞ্চিত ছিল আওয়ামী লীগ। তবে ১৯৯১ সালে প্রথম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেন। তিনি বিপুল ভোটে ৪বার এমপি নির্বাচিত হয়ে ১ বার প্রতিমন্ত্রী ও ২ বার মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকায় তার ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় জনগন তাকে অন্তরে গেঁথে নিয়েছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু দুর্নিতির মিথ্যা মামলায় তাকে অভিযুক্ত করলে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বচনে দল তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করেন। তখন হতাশাগ্রস্থ কালকিনির জনগনের মনে আশার আলো জ্বালাতে নৌকার দায়ীত্ব নিয়ে কালকিনিতে আসেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত, রাজপথের ত্যাগী নেতা আফম বাহাউদ্দিন নাসিম। ২০১৪ সাল থেকে পাচঁ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন জাতীয়, রাজনৈতিকি,ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সাথে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলার আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিকভাবে দলকেও চাঙ্গা করায় এলাকায় জনগনের ব্যাপক আস্থা অর্জন করে ফেলেন।
তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আবুল হোসেন হারানো আসনে ফিরে আসতে চাইলে উপজেলা আ.লীগে দলীয় বিভক্তি দেখা দেয়। বাহাউদ্দিন নাসিমের বিপরীতে আবুল হোসেনের ডজন খানেক পন্থীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে দলের বিভক্তি কেন্দ্রকে জানান দেন। সময়ের পরিবর্তনে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা যখন জল্পনা কল্পনায় ব্যাস্ত আবুল হোসেন নাকি বাহাউদ্দিন নাসিম নৌকার কান্ডারী হয়ে আসবেন কিন্তু সেই হিসেব নিকেশে ফুলের কাঁটা হয়ে সোনাযাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ডঃ আব্দুস সোবাহান গোলাপ এর নাম।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাযায় হঠাৎ নতুন মুখের গুঞ্জনে নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারন ভোটারদের মাঝে একধরনের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। তবুও অনেকেই এখনো আশায় বুক বেধে আছেন সৈয়দ আবুল হোসেন অথবা বাহাউদ্দিন নাসিম এর কারো নাম কেন্দ্র থেকে ঘোষনা হতে পারে।
এলাকাবাসী জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড: আব্দুস সোবাহান গোলাপ কালকিনির গর্ব। সে তার নিজ এলাকা রমজানপুরের যে উন্নয়ন করেছে তা চোখে পড়ার মতো। তবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ায় উপজেলায় জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন তাই হঠাৎ নৌকার দায়ীত্ব নিয়ে সে জনগনের সাথে কতটুকু মিশে থাকতে পারবেন সেটাই তাদের ভাবনার বিষয়।তাই সৈয়দ আবুল হোসেন অথবা বাহাউদ্দিন নাসিম এদের একজনকে চাইছেন সাধারণ জনগন।
এদিকে নতুন মুখের গুঞ্জনের পর থেকে উপজেলা বি,এন,পির মধ্য দেখাযাচ্ছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। গত রবিবার ব্যাপক কর্মী সমাগমের মধ্য দিয়ে তাদের অস্থায়ী ও নির্বাচনী অফিসের উদ্ধোধন করেন। পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাহেদ হোসেন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-০৩ আসনে সুষ্ঠু ভোট হলে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নেতৃত্বে চমক দেখাবে বি,এন,পি এমনাটাই আশা করছেন দলের তৃনমূল নেতা-কর্মীরা।
পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেনও পিছিয়ে নেই। ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক এস, এম আজিজুল হক বলেন, ‘উপজেলার  ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারনা ও আমাদের নীতির ওপর জনগনকে আশ্বস্ত্ব করতে পারায় সন্তোষজনক ভোট পাবো বলে আমরা আশাবাদী’।