২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

অন্য এক নগর

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০১৯

অন্য এক নগর

খোরশেদ আলম,চট্টগ্রাম
প্রতিদিনের যানজট উধাও। ব্যস্ত সড়কে কিছু গাড়ি চললেও এগুলোর হর্ন কিংবা ধোঁয়া কোনোটিই বিরক্তির পর্যায়ে নেই। সড়কে পথচারীও নেই খুব বেশি। আর দোকানপাটেরও বেশিরভাগ বন্ধ। সবমিলিয়ে এ যেন অন্য এক নগর।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, কোতোয়ালী, জিইসি, ২ নম্বর গেইট, মুরাদপুর, টাইগারপাস, আগ্রাবাদ অলংকার,কর্ণেলহাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফাঁকা নগরের চিত্র।

রোববার (১১ আগস্ট) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও এর কয়েকদিন আগে থেকেই শহর ছাড়তে শুরু করেন অনেক নগরবাসী। সরকারি ছুটি শেষে বুধবার (১৪ আগস্ট) খুলবে অফিস-আদালত। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন দোকান খুলবে আরও কয়েকদিন পর। তাই নগর এখনও ফাঁকা।

মঙ্গলবার নগরের ডিসি হিলে দেখা গেল বেশ কিছু মানুষকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে। তাদের কয়েকজন এসেছেন অনেকটা দূরের এলাকা থেকে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো দেওয়ানবাজার কিংবা আলকরণের মতো এলাকা থেকে তারা এখানে এসেছেন হেঁটে!

আলকরণ থেকে ডিসি হিলে ঘুরতে আসা দেবাশীষ জানান, নগরে যানজটের যন্ত্রণা নেই। তাই হাঁটতে হাঁটতেই এখানে চলে এসেছি। পথিমধ্যে মনে হয়েছে এ যেন অন্য এক নগর। এতটা পথ হাঁটলেও কোথাও কোরবানির পশুর বর্জ্য কিংবা ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়েনি।

এদিকে যানবাহন স্বল্পতার সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরের কোতোয়ালি মোড় থেকে আন্দরকিল্লা, চেরাগি পাহাড় মোড় কিংবা জামালখানের টেম্পু ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু সোমবার ও মঙ্গলবার যাত্রীদের কাছ থেকে উঠা-নামা ১০ টাকা করে আদায় করছেন টেম্পু চালকরা। আর মুরাদপুর গেলে ১০ টাকার ভাড়া আদায় করা হয়েছে ১৫ টাকা।

বাড়তি এ ভাড়া নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সব টেম্পু চালকের উত্তর ছিল অভিন্ন- ঈদের বন্ধে যাত্রী কম, তাই ৫ টাকা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি।

এদিকে বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে নৌপথের যাত্রীদেরও। নগরের অভয়মিত্র ঘাট থেকে শিকলবাহা ফেরী ঘাট যেতে প্রতি জন যাত্রীর স্বাভাবিক ভাড়া ১০ টাকা। কিন্তু সোমবার আদায় করা হয়েছে ১৫ টাকা করে।

তবে এক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণ হিসেবে বোট চালকরা যাত্রী স্বল্পতার দোহাই দেননি। তাদের বক্তব্য, ঈদের ছুটি মাটি করে বোট চালাচ্ছি দুটো পয়সা বাড়তি পাব বলে।

সড়ক কিংবা নৌপথে বাড়তি ভাড়া আদায় হলেও তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা করতে দেখা যায়নি যাত্রীদের। ঈদের আনন্দে হাসিমুখেই তারা দিচ্ছেন বাড়তি ভাড়া।

নগরের নন্দনকাননের বাসিন্দা মিতালী চক্রবর্তী সময়ের কন্ঠকে বলেন, ঈদের ছুটিতে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অলস সময় কাটাতে তাই বের হয়েছিলাম নগরভ্রমণে। নন্দনকানন, চেরাগিপাহাড়, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালি মোড় হয়ে ফিরিঙ্গীবাজার অভয়মিত্র ঘাট গেছি হেঁটে হেঁটে। এতটা পথ হেঁটেছি আনন্দ নিয়েই। দীর্ঘ এ পথের কোথাও কোরবানির কোনো বর্য্ঁ পড়ে থাকতে দেখিনি। কোথাও নেই কোনো দুর্গন্ধ, নেই কোনো যানজট। এ যেন স্বপ্নের শহর।

এদিকে ঈদের ছুটিতে তৎপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য। নগরবাসীর নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চার হাজার সদস্য। তাদের সতর্ক অবস্থানে নগরে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপরাধের খবর পাওয়া যায়নি।