২৬, জানুয়ারী, ২০২১, মঙ্গলবার | | ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৯

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা


মোঃ ইলিয়াস আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

‘আল্লায় যেন গজব দিয়িছে, আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেল পানি হচ্ছে না। খাল-বিলে এক টুকুও পানি নেই যে সেখানে পাট জাগ দিব। মহাজনের কাছে সুদের টাকায় ঋণ নিয়ে ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করলাম। এখন মাঠের পাট নিয়ে চিন্তায় ঘুমাতে পারছি না।’

মাঠের পাট নিয়ে এভাবেই নিজের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক খোরশেদ আলম। শুধু এই খোরশেদ আলম নয় চলতি বছর পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার মতো হাজার হাজার কৃষক। পানির অভাবে তারা সবাই পাট জাগ দিতে পারছেন না। এমন দুর্ভোগে পড়ে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হওয়া অবস্থা।

দেশের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলেও বৃষ্টি নেই উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে । ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টি না হওয়াতে জেলার নালা, খাল-বিল ও পুকুরগুলোও নেই পানি। আর এতে করে জেলার কয়েক হাজার পাটচাষি পড়েছেন চরম বিপাকে। পানির অভাবে তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না। পানি না পেয়ে অনেক কৃষকই ক্ষেতেই শুকাতে বাধ্য হচ্ছেন সোনালী আঁশখ্যাত স্বপ্নের ফসল। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য খুবই উপযোগী। প্রতি বছর এ জেলার কৃষকরা অন্য ফসলের মতোই পাট চাষ করে থাকেন। গত বছরের মত বাজার দর ভালো হওয়ায় চলতি বছরও পাট চাষ হয়েছে প্রচুর পরিমানে৷

জেলার পাঁচটি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ পাটের ক্ষেত। মৃদু বাতাসের দোলে দুলছে পাট গাছ। বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈল উপজেলার কয়েকটি মাঠের চিত্র বলছে পাট কেটে বেশ আগেই জাগ দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে কিন্তু জাগ না দেওয়ায় অনেকটা বিবর্ণ হয়ে গেছে পাটের চেহারা।

কথা হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হলদিবাড়ী গ্রামের কৃষক ইসলাম আলীর সাথে। তিনি বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে আমরা পাট চাষ করে আসছি। গত বছরের মতো ভালো লাভের আশায় এবারও ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। বিস্তীর্ণ ক্ষেতের সবুজ পাতা স্বপ্ন দেখাচ্ছিল সোনালী আঁশ ঘরে তোলার কিন্তু তা বিধি বাম। বৃষ্টির দেখা নেই কোথাও। পাট জাগ দিতে পারছি না।

রাণীশংকৈল উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের পাট চাষি স্বপন আলী বলেন, আষাঢ় শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র দেখা দিল । দেখা নেই কাক্ষিত বৃষ্টির। মাঠের পাট কাটার সময়ও পেরিয়ে গেছে আগেই। পাট জাগ দিতে না পেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে পাট চাষিদের মাঝে। তাদের আশঙ্কা সঠিক সময়ে পাট জাগ দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয় হবে। এতে বড় লোকশানের আশঙ্কা তাদের।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, পাটের চাষের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি খুবই উত্তম। এ কারণে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে পাটের আবাদ। তিনি স্বীকার করেন, বৃষ্টির অভাবে সঠিক সময়ে পাট পচাতে না পারলে কিছুটা ফলন বিপর্যয় হতে পারে। তবে কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এজন্য রেবন রেটিং পদ্ধতিসহ পুকুর ও ডোবা-নালাগুলোতে সেচের পানিতে ভরাট করে পাট পচানোর জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে।