২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কলাপাড়ায় স: প্রা: বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানি অভিযোগের তীর প্রধান শিক্ষকের দিকে

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯

কলাপাড়ায় স: প্রা: বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানি অভিযোগের তীর প্রধান শিক্ষকের দিকে


রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি রবিবার সরেজমিনে তদন্ত শেষে ঘটনার বাস্কবতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে সুপারিশ প্রেরনের বিষয়টি গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম।

নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানি করে। চতুর্থ শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থীকে ঈদ-উল-আযহার বন্ধ ঘোষনার আগে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার রুমে ডেকে নিয়ে রুম বন্ধ করে যৌন-হয়রানি করে। এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার মা কে অবহিত করে।

নির্যাতিত ওই কন্যা শিশুর মা জানায়, মেয়েকে যৌন-হয়রানি করেছে। চার-পাঁচদিন পর্যন্ত মেয়ে অসুস্থ রয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানায় সে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোস্তফা হাওলাদার জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ শুনে এসেছি। মান-সম্মানের জন্য কেউ সাহস করে মুখ খোলেনি। সর্বশেষ যে নির্যাতন করেছে তা প্রকাশ পাওয়ায় আমরা হতবাক। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মোতালেব হাওলাদার জানান, শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে ১০ দিন আগে একটি সভা করা হয়। সভায় প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এখন নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অভিযোগ করায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করা হয়।

উল্ল্যেখ্য, শনিবার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবীতে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম অসুস্থ হয়ে পড়ায় থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরন করে। কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের হৃদ-ক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে.বা.চি.ম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রফিুকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ও তাদের অভিভাবকদের আলাদা ভাবে সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। এতে যৌন হয়রানির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশার জানান, ’শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানিরর বিষয়টি তদন্তে উঠে আসায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হবে। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার ও বিচার-বিভাগীয় মামলা হতে পারে।’

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানান তিনি।