২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

নিরাপদ আশ্রয় বাবা

আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৯

নিরাপদ আশ্রয় বাবা

সামিউল্লাহ,কোতয়ালী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ছোট্ট একটি শিশু। বাবার তর্জনী তার ছোট্ট হাতের মুঠো দিয়ে শক্ত করে ধরা। এক পা এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। ওই একটি তর্জনীর ওপর নির্ভর করেই এগিয়ে যাচ্ছে শিশুটি। অবুঝ হলেও সে জানে এটাই তার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। দৃশ্যটা খুব সাধারণ হলেও এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের জীবনে বাবার অবদান কতখানি। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরতার আশ্রয়স্থল বাবা। বাবার অকান্ত শ্রম, ভালোবাসার উষ্ণতা, শাসন, শিক্ষায় বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি সন্তান। বাবার শক্ত হাতের মুঠোয় কত নির্ভরতায় ও নির্ভাবনায় বেড়ে ওঠে সন্তানেরা। তার অকেশ শ্রম, তার অধ্যবসায়, সন্তানের প্রতি তার অকৃত্রিম স্নেহ না থাকলে কি কোনো সন্তান ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে? বাবা সংসারের সব ঝড়-ঝাপটা, চড়াই-উৎরাই নিজে সহ্য করে সন্তানের চলার পথকে মসৃন করার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন নিরন্তর। তার পরামর্শ, তার অভিজ্ঞতা, তার দেয়া শিক্ষা সন্তানের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনা, শোক-তাপ, মালিন্য উচ্ছ্বাসে নিঃস্বার্থ সেবা বাবা ছাড়া আর কে দিতে পারে? বাবা যখন বৃদ্ধ হয়ে যান, শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন তখন তিনি শ্রম হয়তো দিতে পারেন না কিন্তু সন্তানের জন্য তার আশীর্বাদ কখনো বন্ধ হয় না। সব সময় সন্তানের মঙ্গলের জন্য দোয়া করাই যেন হয়ে উঠে তার মূল কাজ।মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মতো বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ করা দরকার,  আজকাল আমাদের সমাজেও এমন অনেক সন্তান দেখা যায় যারা বাবা-মায়ের প্রতি তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করে না বা করতে চায় না। সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে বাবার সাথে তাদের দূরত্বের পরিধিও যেন বাড়তে থাকে। বাবার প্রতি তাদের এক ধরনের নির্লিপ্ততা বাড়তে থাকে।


অনেকেই ভুলে যায় যে তার জীবন গড়ে দেয়ার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হচ্ছেন বাবা। অর্থ, সম্মান, প্রতিষ্ঠার মোহে জন্মদাতা পিতাকে অবহেলা করছে এমন উদাহরণও এই সমাজে কম নেই।
কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে, বাবার অবদান কখনোই কোনো সন্তানের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। বাবা যদি সন্তানদের অনেক প্রাচুর্য, স্বাচ্ছন্দ্য না-ও দিতে পারেন তবুও দোয়া দিয়ে যান মনেপ্রাণে। যে দোয়া অন্যদের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। তাই যত দিন বাবা-মাকে কাছে পান সন্তানদের কর্তব্য তাদের সেবা ও সন্তুষ্টির জন্যই সচেষ্ট থাকা। এটাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।