৯, জুলাই, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

ডোমারে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৯

ডোমারে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

মো: নাঈম শাহ্, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী জেলার ডোমারে উপজেলায় স্থানীয় নামে পরিচিত গেন্ডারী ও হাইব্রীড
জাতের আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভবান হওয়ায়
আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ডোমার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঁচু ও
পানি নিষ্কাশন জমিতে  গেন্ডারী, হাইব্রীড জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। আখ
চাষীরা হাসি মুখে আখ ক্ষেতেই খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি করছে। আখ
চাষীদের দেওয়া তথ্য মতে, “বাংলা সনের আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আখ জমিতে
রোপন করা হয়। আখ বাজারজাত করনের উপযোগী হতে সময় লাগে প্রায় ৮ হতে ১০মাস।
প্রতি একর জমিতে ৩০হাজার হতে ৩৫হাজার পিচ আখের ফলন হয়। প্রতি পিচ ৬টাকা
হতে ১০টাকা এমনকি চাহিদা অনুযায়ী এরচেয়ে অধিক দামেও বিক্রি করা হয়।একরে
২লক্ষ থেকে সোয়া দুই লক্ষাধিক টাকায় আখ বিক্রয় করা যায়। প্রতি একর আখ
চাষে উৎপাদন খরচ দাড়ায় ৩০ থেকে ৩৫হাজার টাকা।” আখ চাষের পাশাপাশি
আখক্ষেতে সাথী ফসল হিসেবে আলু,শাক,ও অন্যান্য সাথী ফসল চাষ করা যায় বলে
চাষে আগ্রহ বাড়ছে জানায় আখ চাষীরা। উপজেলার নয়ানী গ্রামের আখ চাষী চন্দন
বলেন,“ সাথী ফসল বিক্রি করে আখ চাষের উৎপাদন খরচ তোলা যায়। তুলনামূলক
হিসেবে অন্যান্য চাষাবাদের চেয়ে আখ চাষে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।” পশ্চিম
বোড়াগাড়ী গ্রামের আখ চাষী আমীন ইসলাম বলেন,“ আখ চাষে অধিক মুনাফা হলেও
ব্যাপকহারে আখ চাষের পরিকল্পনা নেই। কারন এই জাতের আখ শুধু চিবিয়ে খায়
মানুষ,বানিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা যায় না। সুগারমিল্স এই জাতের আখ ক্রয় করে
না। বানিজ্যিকভাবে বিক্রয় কিংবা কাচামাল হিসেবে অন্যকোন কাজে ব্যবহার করা
হলে,চাষীরা ব্যাপক হারে আখ চাষ করতে পারবে।” ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
কৃষিবিদ জাফর ইকবাল বলেন,“ ইশ্বরদী-৩৭/৩৮ জাতের চিবিয়ে খাওয়া (চুইমিং )
আখ গেন্ডারী ও হাইব্রিড  নামে স্থানীয় ভাবে পরিচিত।এই  জাতের আখ শুধু
চিবিয়ে খাওয়ার জন্যই,এই জাতের আখের রস দিয়ে চিনি,গুড় তৈরী করা হয় না।
বানিজ্যিক ভাবেও বিক্রির কোন সুযোগ নেই। তবে শুধু চিবিয়ে খাওয়ার জন্য
অনেক চাহিদা আছে আমাদের দেশে। ডোমার উপজেলায়  প্রতি বছর ইশ্বরদী-৩৭/৩৮
জাতের আখ চাষ করা হয়, চলতি বছরে উপজেলায় ৮হেক্টর জমিতে ইশ্বরদী-৩৭/৩৮
জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।”