১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ঘুষের টাকার চাকুরীর ভয়াবহতা

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০১৮

ঘুষের টাকার চাকুরীর ভয়াবহতা

হা: আল-আমিন কাজী, (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ): ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া আমাদের দেশে কিছু ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক’ হয়ে গেছে। পূর্ব থেকেই আমাদের দেশের কিছু স্বার্থবাদী, অসাধু ,লোভী ব্যক্তির,অসাধু আচরণের জন্যই দিন দিন আমাদের সমাজে বিভিন্ন পন্থায় মানুষ অপরাধে জড়িত হয়। তার মধ্যে অন্যতম দিক হলো চাকুরীর সময় অতিরিক্ত টাকা আদায় করা, যা দ্বারা ব্যাক্তি যোগ্য থাকার পরও অবৈধভাবে টাকার অঙ্কে পৌঁছাতে না পারায় অযোগ্য লোক হয়ে যায় যোগ্য লোকের আসনে। নিম্মে আলোচনা করা হলো ইসলাম ঐসব লোকদের ব্যাপারে কি বলে। ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া হারাম। এটা প্রায় সবাই জানে। তাহলে যারা ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন, তাদের চাকরির বেতন বা টাকার কী হুকুম?

মূলত ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া স্পষ্ট হারাম। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৩৫৮২)

হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া জায়েজ নয়। এভাবে চাকরি নিলে ঘুষ দেওয়ার কারণে কবিরা গুনাহ হয়, আবার ঘুষ গ্রহণের কারণেও বড় গোনাহে লিপ্ত হয়। অন্যদিকে ঘুষদাতা কর্মের অযোগ্য হলে অন্য যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর অধিকার নষ্ট করার গুনাহও হয়।

তবে কেউ যদি বাস্তবেই চাকরির যোগ্য হয় এবং (ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্ত্বেও) ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়। আর পরে সে যদি যথাযোগ্য দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া অবৈধ ও গোনাহ হলেও বেতন হালাল হবে। কিন্তু ঘুষদাতা যদি কর্মক্ষেত্রে অযোগ্য হয় এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার জন্য ওই চাকরিতে থাকা বৈধ হবে না। আর ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৩৩৭)