১৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার | | ৩০ মুহররম ১৪৪২

কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধকেটে ঘরে ঢ়ুকে গৃহকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও দুর্ধর্ষ ডাকাতি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধকেটে ঘরে ঢ়ুকে গৃহকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও দুর্ধর্ষ ডাকাতি

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি, ০৮ সেপ্টেম্বর ঃ কলাপাড়ায় আলোচিত অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলার বাদী হাজী আবদুস সালাম মুসুল্লী (৭০)-এর বাড়ী দুর্ধর্ষ ডাকাতি করে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ৭/৮ জনের একদল মুখোশধারী গ্রæপ। শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার মহিপুর থানাধীন বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রবিবার সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাহফুজুর রহমান, মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো: মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আহত হাজী আবদুস সালাম ও তার পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৭/৮ জনের মুখোশধারী একটি গ্রæপ সিঁধ কেটে তার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর বৈদ্যুতিক আলো জ্বালিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হাজী আবদুস সালাম’র হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। একজন তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সা ও স্বর্নালঙ্কার বের করে দিতে বলে। এতে তিনি রাজী না হলে তার ডান পায়ের হাঁটুর নীচে এবং বাম পায়ের হাঁটুর নীচে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। মুখোশধারীরা তার স্ত্রীকেও মারধর করে ষ্টীল আলমিরা ও কেবিনেট ভেঙ্গে নগদ ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা, একটি মোবাইল সেট ও স্ত্রীর কানে পরিহিত স্বর্নালঙ্কার নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে প্রেরন করে এবং মহিপুর থানা পুলিশকে অবগত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগষ্ট উপজেলার বিপিনপুর গ্রামের হাজী আবদুস সালাম মুসুল্লী মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী মো: জসিম মৃধার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগে আদালতে (সিআর-৭১০/২০১৯) মামলা দায়ের করেন। কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: শিহাব উদ্দীনের আদালত মহিপুর থানার ওসিকে চাঁদা দাবীর বিষয়ে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন। অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ওই মামলায় নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমএলএস পদে নিয়োগের নামে অধ্যক্ষের চাঁদাবাজি, সহকর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপারিশ প্রেরনে অনিয়ম হেতু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ করেন মর্মে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সহকর্মীকে সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক গালমন্দ করে ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় (৭১৪ নম্বর) জিডি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের তদন্তাধীন চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারে অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে কলেজের ক্লাস বন্ধ রেখে ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের প্রখররোদে দাড় করিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে তাকে দেখে নেয়া হবে বলে হুমকী দেয় এবং আরো কর্মসূচী দেয়ার ঘোষনা দেয়। গত ৩০ আগষ্ট সকাল ১০টায় মহিপুর প্রেসক্লাবে আদালতের তদন্তাধীন চাঁদাবাজির ’মামলাটি মিথ্যা এবং গনমাধ্যমে অসত্য খবর প্রকাশিত হয়েছে’ দাবি করে অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো: মাহবুবুর রহমান জানান, উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সহ আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি গুরুত¦ সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমরা এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। আইনী পদক্ষেপ গ্রহনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।