১৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৬ মুহররম ১৪৪১

কলাপাড়ায় এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

কলাপাড়ায় এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের পৌরগোজা গ্রামে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৪নং পৌরগোজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়ের সম্মুখের মাঠটি কর্মদাক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এমনকি রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের ছোট্ট পথটিও কাদায় একাকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাহীন দূর্ভোগে থাকা গ্রাম বাংলার এ বিদ্যালটির শিশু শিক্ষার্থীরা হয়তো পা পিচলে আচাঁর খেতে খেতেই স্কুলে আসে। বিদ্যালয়টিতে ১৭৭জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য ৫জন শিক্ষক থাকার কথা।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায় দু’জন সহকারী শিক্ষক উপস্থিত আছেন। প্রধান শিক্ষক কলাপাড়া উপজেলা শহরে গেছেন হয়তো নতুন কোন বরাদ্ধের খোঁজে। সহকারী শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন গেছেন পি.টি.আই’তে আর মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন শিক্ষিকা মোসাঃ তুলি। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকার সীমাহীন দূর্নীতি করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোঃ সালেহ। কাজ না করে কিভাবে বিদ্যালয়ের টাকা লুটপাট করা যায় তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন তিঁনি। ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্ধ থেকে শুরু করে দূর্যোগ মোকাবেলার বরাদ্দ পর্যন্ত কোনটাই তিঁনি ছাড় দেননি। তিঁনি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন না করলেও তাঁর বাড়ি ঘরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এমন অভিযোগ ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের। ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এক অভিভাবক।

অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় উন্নয়ন পরিকল্পনার বরাদ্ধ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি শিক্ষক তালিকা বোর্ড ও তিনটি তোয়ালে ক্রয় করেছেন। আর স্কুলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা জমা আছে বলে তিনি দাবী করেছেন। বাকী টাকার কোন হদিস নেই। রুটিন মেনটেনের বরাদ্ধ ৪০ হাজার টাকায় বিদ্যালয় ভবনের পূর্ব পাশে একটি ছোট বারান্দা নির্মাণ করেছেন। সেখানে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে। বাকী টাকা কোথায় আছে তা তিঁনি ছাড়া কেউ জানেন না। ওয়াসবøকের বরাদ্দ ২০হাজার টাকায় শুধুমাত্র রং করেছেন এবং বিলিসিং পাউডার ক্রয় করেছেন। বাকী টাকা তাঁর নিজের পকেটে। দূর্যোগ ঝুঁকিকালীন বরাদ্দকৃত ৫ হাজার টাকা সূর্য্যরে আলো দেখেনি। প্রাক্ প্রাথমিক শ্রেণির বরাদ্দকৃত ১০ হাজার টাকায় ১০/১২ ফুট একটি ফ্লোরম্যাট ও ৪টি বর্ণমালা চার্ট ক্রয় করেই দায় সেরেছেন। এত গেলো চলতি বছরের হিসাব। গত বছর বা তার আগের বছরগুলোতে বিদ্যালয় উন্নয়নের বরাদ্ধকৃত টাকার হিসাব নিতে গেলে ঘাম ঝড়বে খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসেরও। গত কয়েক বছরের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা কোথায়, কিভাবে আছে তা হয়তো তিনি বলতে পারবেন। সহকারী শিক্ষকরা হিসাব নিকাশের মধ্যে নাই। তারা মোটামুটি পাঠদান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোঃ সালেহ’র অনুপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষকরা বরাদ্দে টাকা কোথায় আছে তা কিছুই বলতে পারেননি। তবে ক্রয়কৃত কিছু মালামাল দেখাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের ভাষ্য হিসাব নিকাশ প্রধান শিক্ষকের কাছে আমরা পাঠদানে ব্যস্ত থাকি। উন্নয়ন যা হয়েছে তা দৃশ্যমান আছে।

এ ব্যাপারে কথা বলেন সহকারী আঃ আজিজ বলেন, বিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে বরাদ্দ আসলে প্রধান শিক্ষক আমাদের অবহিত করেন, কোথায় ব্যয় করবেন তাও বলেন। কিন্তু কত টাকা খরচ হয়েছে আর কত টাকা আছে তার হিসাব কখনও তিনি দেন না, আমরাও চাই না।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোঃ সালেহ মুঠো ফোনে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমাকে হয়রাণী করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছেন। বরাদ্দের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করেছি, কিছু মালামাল ক্রয় করেছি। আরও কিছু মালামাল ক্রয় করবো।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাসার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।