২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া গলফ আরগো জাহাজ সাপরে ভাসছে তেল ও পন্যসামগ্রী

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া গলফ আরগো জাহাজ সাপরে ভাসছে তেল ও পন্যসামগ্রী

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি, ১৭ সেপ্টেম্বর ঃ কলাপাড়া পায়রা বন্দরের ফেরারওয়ে বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৪ নাবিক নিয়ে ১৫২টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ এমভি গলফ আরগো ডুবির ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও জাহাজটি উদ্ধার কার্যক্রম অভিযান এখনও শুরু হয়নি।

এদিকে জাহাজের কন্টেইনারসহ বহনকৃত মালামাল সমুদ্রে ভাসছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। ভেসে আসা তরল পদার্থ ভর্তি ব্যারেল ও প্রসাধণী সামগ্রী কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। তবে অনেক প্রসাধনী সামগ্রী বিনষ্ট হয়ে গেছে।

মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহমেদ বলেন, গঙ্গামতি সাগর সৈকতে ভেসে আসা একটি কন্টেইনার থেকে তরল পদার্থ ভর্তি ৬০টি ড্রাম ও কিছু প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। কলাপাড়া থানার এস আই বিপ্লব জানিয়েছেন, রোববার রাতে লালুয়া থেকে ১৪ বস্তা বিভিন্ন ব্রান্ডের কসমেটিকস উদ্ধার করেছেন। সাগরে মাছ ধরারত জেলেরা ভাসমান অবস্থায় এসব পণ্য উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে এসব মালামাল ডুবে যাওয়া জাহাজের কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে পায়রা চ্যানেলে গলফ আরগো জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নেই। জাহাজটি উদ্ধার করতে পারে ডায়রেক্টর জেনারেল অব শিপিং কর্পোরেশন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে তারা পায়রা চ্যানেল সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। চট্রগ্রাম নৌ-বাহিনী এ সমীক্ষার কাজ শুরু করবে। জাহাজ ডুবির কারনে এ চ্যানেলে অন্য জাহাজ চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় কিনা তা যাছাইয়ের জন্য এ সমীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গলফ ওরিয়েন্ট সীওয়েচ লিমিটেডের লজিষ্টিক ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান বলেন, তাঁরা এখনও জাহাজটি উদ্ধারের জন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন নি। জাহাজ ও জাহাজের যন্ত্রাংশ এবং পরিবাহিত মালামাল রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

উল্লেখ্য,গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পায়রা ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এমভি গলফ আরগো জাহাজ ১৪ নাবিক নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরদিন (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরে টহলরহ নৌবাহিনীর জাহাজ সাংগু ডুবে যাওয়া জাহাজের ১৪ নাবিককে উদ্ধার করে। ১৪ সেপ্টেম্বর বিকালে উদ্ধারকরা নাবিকদের কোম্পানীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।