২২, জানুয়ারী, ২০২১, শুক্রবার | | ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মেডিকেলের মেডিসিন ষ্টোর সিলগলা: রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ, নীলফামারীর সিভিল সার্জন অবরুদ্ধ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

মেডিকেলের মেডিসিন ষ্টোর সিলগলা: রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ,  নীলফামারীর সিভিল সার্জন অবরুদ্ধ

মো: নাঈম শাহ্, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
মধ্য বয়সী এক রোগীর শরীরে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করার ঘটনাকে
কেন্দ্র করে আজ রবিবার বিক্ষুদ্ধ লোকজন নীলফামারীর সিভিল সার্জনকে দপ্তর
অবরুদ্ধ করে রাখেন। উত্তেজিত জনতা তৎক্ষনাৎ হাতে লিখে বিভিন্ন প্লাকার্ড
নিয়ে মেডিকেলা চত্বরে সামনে মানববন্ধন করে। প্লাকার্ড গুলোতে উত্তেজিক
জনতারা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জনের অনিয়ম ও দূর্ণিতির কথা তুলে ধরে।
প্লাকার্ড গুলোতে লিখা ছিল অযোগ্য সিভিল সার্জনের অপসারণ চাই, হৈ হৈ রৈ
রৈ হাসপাতালের ঔষধ গেলো কই, আমরা গরিব বলে কি ভালো ঔষধ পাবো না, আমাদের
সুস্থ থাকার অধিকার নেই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসারত রোগীদের মাঝে
চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ
করায় অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র হতে জানা যায়,
শনিবার রাত ১০টায় শহরের নতুন বাজার কলোনি এলাকার আব্দুল ওহাবের স্ত্রী
মল্লিকা বেগমকে (৫০) অসুস্থ অবস্থায় সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এসময় জরুরী বিভাগে কোন চিকিৎসক না থাকায় উপস্থিত
কর্মচারীরা মল্লিকা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ডে
পাঠায়। এসময় ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স কল্পনা রানী দাস ও ছায়া রানী
মল্লিকা বেগমকে মেয়াদউত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করেন। এদিকে রাত ১২টার দিকে
রোগীর লোকজন যখন বুজতে পারেন স্যালাইনটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ততক্ষনে
স্যালাইনের বেশীরভাগই শরীরে পুশ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত নার্সের
সাথে রোগীর লোকজনের বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যায় এবং ঘটনাটি এলাকায় হট্টগোল
সৃষ্টি হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি প্রথমে ভিন্ন খাতে প্রবাহের
চেষ্টা করলেও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। একই সময়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন
রোগীকে চলতি বছরের মে মাসে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন শরীরে পুশরত অবস্থায়
পাওয়া যায়। হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদ উত্তীর্ণ আরো ওষুধ ও স্যালাইন রয়েছে
এমন অভিযোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল রাতেই হাসপাতালের স্টোর
সিলগালা করা হয়। এদিকে আজ রবিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে রোগীর লোকজনের সাথে
এলাকার শত শত মানুষ এক হয়ে ঘটনার সুষ্ট তদন্ত ও সিভিল সার্জন ও সিনিয়ন
নার্স কল্পনা রানী দাসএর অপসরন  ও বিচারের দাবি জানিয়ে সিভিল সার্জন
দপ্তর অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় চরম উত্তেজনা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও
পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুষ্ট তদন্তের
আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এব্যাপারে নীলফামারীর সিভিল
সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা
তদন্তে ডাঃ এএসএম রেজাউল করিমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা
হয়েছে। কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন
বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। অপর দিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে,
দীর্ঘ দিন থেকে বিশেষ করে রাতের বেলা রোগীদের মেয়াদউত্তীর্ণ স্যালাইন,
ওষুধ প্রদান ছাড়াও দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা রোগীদের সাথে
অসদাচারণ করে আসছেন। এছাড়া গর্ভবতি কোন রোগী গেলেই নানা ছলচাতুরীর
মাধ্যমে রংপুর কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন
হাসপাতালে কর্মরত একটি চক্র।