২৩, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হারাতে যাচ্ছে সমৃদ্ধির প্রতীক;ধানের গোলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হারাতে যাচ্ছে সমৃদ্ধির প্রতীক;ধানের গোলা

মেহেদী হাসান শিয়াম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ:গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন বিলুপ্তপ্রায়। হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঐতিহ্যবাহী গোলা। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুদ করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলা বা গোলাঘর।অথচ একসময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতো কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসেব কষে।আগের গ্রামগঞ্জের বিয়ের ধুম উঠলে,কন্যা পাত্রস্থ করতেও বর পক্ষের বাড়ি থেকে ধানের গোলার খবর নিতো কনে পক্ষের লোকজন, যা এখন শুধু কল্পনায় ভাবা যায়।
গ্রাম অঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে।আঁকানো হতো বিভিন্ন রং দিয়ে দেখতে বেশ ভালো লাগলেও এখন আর দেখা যায়না। গ্রাম অঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ, বাঁশের বাতা ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ অথবা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হত। এরপর তার গায়ের ভেতরে-বাহিরে মাটির আস্তরণ লাগানো হতো। গোলায় শুকানো ধানের চাল হতো শক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিককালে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে-পাল্টে দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলের চালচিত্র। 
গোলায় তোলার মতো ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করে বাঁশের তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতি ডোলায়। ধান আবাদের উপকরণ কিনতেই কৃষকের বিস্তর টাকা ফুরায়। কৃষকের ধানের গোলা ও ডোলা এখন শহরের বিত্তশালীদের গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে। কৃষকের ধান চলে যাচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু মুনাফালোভী ফড়িয়া ও আড়ৎ ব্যবসায়ীর দখলে। ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে পাকা ইমারত গুদাম ঘরে মজুদ করে রাখা হচ্ছে হাজার হাজার টন ধান চাল। অনেক ক্ষুদ্র কৃষক বস্তা ও ব্যারেল ভর্তি করে রাখছে আউশ, আমন ও বোরো মওসুমে উৎপাদিত ধান চাল। বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। আগামী প্রজন্মের কাছে ধানের গোলা একটি স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধানচাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে ধানের গোলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।