১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

নীলফামারীতে সরকারি স্কুলের কাছে সার্কাস প্যান্ডেল : বড় মাঠ রক্ষার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৯

নীলফামারীতে সরকারি স্কুলের কাছে সার্কাস প্যান্ডেল : বড় মাঠ রক্ষার  দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
শিল্প ও বানিজ্য মেলার নামে চার মাস ধরে দখলে থাকা নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী
 বড় মাঠ উন্মুক্ত করার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবরে
স্মারকলিপি প্রদান করে নীলফামারী জেলার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধা এবং
সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন আলো’র সদস্যরা। বিক্ষোভ মিছিলটি নীলফামারী
শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক
প্রদক্ষিণ করে  জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়ে বক্তব্য
প্রদান করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী
লীগ ও আলো’র প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, আলো’র
সাধারন সম্পাদক মাহমুদ আল হাসান রাফিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক
আহবায়ক আব্দুল জলিল,নীলফামারী  সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল
ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা বাবু বঙ্কু বিহারী রায়,শ্রমিক
নেতা সিরাজুল ইসলাম আবু, সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন মহি,জেলা জাতীয়
পার্টির সহ-সভাপতি খয়রাত হোসেন শাহ্  প্রমূখ। নীলফামারী জেলা পরিষদ
চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন,  ‘নীলফামারী শহরের
ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠটি (টাউনক্লাব মাঠ) শহরের মানুষের স্বস্তির নিঃশ্বাসের
একমাত্র যায়গা। মাঠ ছাড়া বিকেলের অবসর সময় কাটানো কিংবা উৎসবে ঘুরে
বেড়ানোর মতো শহরে বিকল্প কোন জায়গা নেই। এক মাসের জন্য মেলা থাকার কথা
থাকলেও চার মাস থেকে মাঠটিকে দখল ধরে রাখা হয়েছে।মেলায় সার্কাস ও
মোটরসাইকেল খেলার জন্য মাঠের বড় একটি অংশ খনন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন,
‘১৩ দশমিক ২৪ একরের এ মাঠের ভেতর এক সময় একসঙ্গে চারটি ফুটবল ম্যাচ
অনুষ্ঠিত হতো।কিন্তু দিন দিন এই মাঠটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এই মাঠের বুকে
প্রতিদিনই বসছে বিভিন্ন ধরনের দোকান ও প্রতিষ্ঠান। সংকুচিত হয়ে আসছে
মাঠটি। বিভিন্ন সময়ে নীলফামারী পৌরসভার ভবন নির্মান, জিমনেশিয়াম, পানির
ট্যাংক স্হাপন, শিক্ষাভবন,পুলিশ সুপারের আমবাগান এবং শিল্পকলা একাডেমির
সম্প্রসরণ করে মাঠটিকে দখল করা হয়। বড় মাঠ থেকে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা
উচ্ছেদ করে খেলাধুলা ও বিনোদনের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। স্মারকলিপি
সূত্রে জানা যায়, ‘সর্বপরি জেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়
থেকে মাত্র ২০ গজ দুরে সার্কাস প্যান্ডেল স্হাপন করে নাচ গানের আয়োজন
যেমন দূূঃখজনক তেমনি বড় মাঠের এক প্রান্তে রাবেয়া বিদ্যানিকেতন অপর
প্রান্তে নীলফামারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছমির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ
অবস্থিত। নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বার্ষিক ও সমাপনি পরিক্ষা। হাজার হাজার
শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষার প্রস্তুুতি নিতে ব্যস্ত তখন মাসের পর মাস মাঠ
দখল করে মেলা আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
নিঃসন্দেহে।  প্রতিবছর বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠানে দোকান ঘর ও স্টেজ তৈরিতে
খানাখন্দ সৃষ্টি হয় পরবর্তীতে কেউ মাঠের সংস্কার করে না,ফলে ক্রীড়া
সংস্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই মাঠ সংস্কারের দায়িত্ব নিতে হয়।নীলফামারী
বিআরটিএ কতৃপক্ষ এই ঐতিহাসিক মাঠটিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পরীক্ষা
গ্রহন করে। ফলে মাঠে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও নীলফামারী শেখ
কামাল ষ্টেডিয়াম ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন যায়গায় ফুটবল, হাডুডু সহ
বিভিন্ন খেলার ভাগ্য পরীক্ষার নামে জুয়া (লটারি বা রাফেল ড্র) পরিচালনা
না করার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।