২৭, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নেত্রকোনায় সহপাঠীর চিকিৎসার দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা!

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৯

নেত্রকোনায় সহপাঠীর চিকিৎসার দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা!


 জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা : হার্টে ছিদ্র হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রাফি (১৪)।উন্নত চিকিৎসার জন্য নবম শ্রেণির অসুস্থ এই শিক্ষার্থীকে অতিসত্বর দেশের বাহিরে নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু রাফির দরিদ্র বাবার পক্ষে তা কিছুতেই সম্ভব নয়।তবে কি অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে রাফি? না ; তা হতে দেবে না রাফির সহপাঠীরা। রাফিকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা।সকল শিক্ষার্থী-বন্ধুরা মিলে টাকা নিজে দিয়ে-সংগ্রহ করে প্রাথমিক পর্যায়ের খরচের ধাক্কাটা সামলে নিয়েছে। এবার বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে শিক্ষার্থীরা।কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা অনুসারে অর্থ সহায়তা দিতে না পারায় শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের ভিতরে রেখে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে বাহির থেকে বিদ্যালয়ের গেটে তালা বন্ধ করেআন্দোলন শুরু করে।পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে যান।শিক্ষার্থীরা জানায়, চিকিৎসকের পরামর্শ ও রাফির শারীরিক কন্ডিশন অনুযায়ী রাফিকে ভারত নিয়ে যেতে হবে। অনেক টাকার প্রয়োজন।বিদ্যালয়ের সহায়তার ফান্ড থাকার পরও কর্তৃপক্ষ তা দিচ্ছেন না। বরং দাবি উপস্থাপন করে সামনে দাঁড়ালে দুর্ব্যবহার করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন।সকল শিক্ষার্থীদের রুম থেকে বের করে দেন তিনি! এমনকি রাফির চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বিদ্যালয়ের প্রত্যায়নপত্রও দিবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন! পরে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাফিকে বাঁচাতে বিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলন শুরু করে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন  জানান, শিক্ষার্থীরা রাফির চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ১ লাখ টাকা সহায়তা চায়। তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। হৈ হল্লা চালিয়ে একপর্যায় আন্দোলনে নামে। বিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।এদিকে রাফির বাবা পৌর শহরের কুরপাড় এলাকার আব্দুস ছালাম  জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর রাফির হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে। রাফিকে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে (আসহা) ভর্তি করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে হার্টের চিকিৎসক কৌশিক ভৌমিককে দেখানো হয়। চিকিৎসক রাফিকে দ্রুত দেশের বাহিরে নেয়ার পরামর্শ দেন।